জার্মানি ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত, নেতৃত্বে হবে ইউরোপীয় জোট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জেডডিএফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে তার দেশ প্রস্তুত। তবে এটি হবে এককভাবে নয়, বরং ইউরোপীয় জোটের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবে না। মের্জ বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেনের আকাশসীমা ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চ্যান্সেলর মের্জের ভাষ্য অনুযায়ী, জার্মান সশস্ত্র বাহিনী ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত এই বহুজাতিক মিশনে অংশগ্রহণ করতে পারে। এতে কেবল ইউরোপীয় দেশ নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও জানান, যদি কখনও এমন একটি বাহিনী গঠন করা হয়, তা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করার পথকে প্রভাবিত করবে।

রোববার এবং সোমবার বার্লিনে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দিনের আলোচনার পর, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইউক্রেনের জন্য একটি ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন প্রদান, আকাশসীমা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা।

জার্মান চ্যান্সেলরের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে, এ বিষয়ে পশ্চিমা জোটের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা এই বাহিনী গঠনের মাধ্যমে ইউক্রেনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া, ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ, সামরিক উপকরণ সরবরাহ এবং যৌথ কৌশলগত প্রস্তুতির মাধ্যমে যুদ্ধের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। চ্যান্সেলর মের্জ বলেন, পুতিন অনেক বিষয়ে শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে সম্মতি দিতে হতে পারে।

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে জার্মানি এবং ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসছে। পুতিনের আগ্রাসনের মোকাবিলায় ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। জার্মান চ্যান্সেলরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী গঠন কেবল নিরাপত্তা বিষয়ক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানির এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে এটি ইউক্রেনকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী সমর্থন নিশ্চিত করবে। ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন বাহিনী গঠনের ফলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা সহজতর হবে এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ড রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এর আগে ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার ফলাফল হিসেবে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের ধারণা সামনে আসে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই বাহিনীর অংশীদারিত্বে সমর্থন জানিয়েছে। তারা নিশ্চিত করতে চায়, এটি রাশিয়ার আক্রমণ বা সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে।

চ্যান্সেলর মের্জ আরও উল্লেখ করেন, “আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করতে চাই। ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী আমাদেরকে এটি অর্জনে সাহায্য করবে। আমাদের লক্ষ্য ইউক্রেনকে শুধু সামরিকভাবে নয়, কৌশলগতভাবে সমর্থন দেওয়া।”

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক একতা এবং রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্য দৃঢ় করবে। এছাড়া, এটি আন্তর্জাতিকভাবে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নেতৃত্ব নয়, বরং ইউরোপীয় দেশগুলো সমন্বয়মূলক ভূমিকা নেবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবে ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে জার্মানি প্রস্তুত। এটি রাশিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলা, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত