চাটমোহরে নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার
আওয়ামী লীগের নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান রজব আলী বাবলুকে

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাবনার চাটমোহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার পাবনা আদালত চত্বর থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের স্থানীয় এক সময়ের শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম রজব আলী বাবলু। তিনি চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চাটমোহর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রজব আলী বাবলুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। বুধবার একটি মামলার শুনানির জন্য পাবনা আদালতে উপস্থিত হলে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রশিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত চত্বরেই রজব আলী বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের নির্দেশে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রজব আলী বাবলু দীর্ঘদিন ধরে চাটমোহর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তিনি এলাকায় সংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে তিনি গুনাইগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে তার বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে চাটমোহর ও আশপাশের এলাকায় সহিংসতা ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহ করছিল। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাটি সেই অভিযোগেরই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গ্রেপ্তারের খবরে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই উচিত। আবার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কিছু নেতা-কর্মীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। তারা বলছেন, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

পাবনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই গ্রেপ্তারের ফলে চাটমোহর এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের মামলাটির তদন্ত আরও জোরদার করা হবে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সব মিলিয়ে, চাটমোহরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তার শুধু একটি আইনগত ঘটনা নয়, বরং এটি স্থানীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চলমান রাজনৈতিক উত্তাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত