ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার—এই খবরটি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সাবেক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করায় এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মো. জামাল হোসেন (৫২) নামে এক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে মোংলা থানা পুলিশ। তিনি মোংলা পৌর যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় এলাকাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মো. জামাল হোসেন পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সিগন্যাল টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আশ্বাব আলীর ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকায় এলাকায় তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। এক সময় তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে পৌর যুবলীগের নেতৃত্বে যুক্ত হন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়।

মোংলা থানা পুলিশ জানায়, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের আওতায় নিয়মিত মামলার অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান মূলত অপরাধ দমন, সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধ এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়; বরং আইনের আওতায় থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া।

এ বিষয়ে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর রহমান বলেন, নিয়মিত মামলার ভিত্তিতেই মো. জামাল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পরপরই এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ বলছেন, প্রভাবশালী হলেও আইনের আওতায় আসা উচিত ছিল তার অনেক আগেই। আবার অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অবশ্য পুলিশের অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও নিরাপদ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডেভিল হান্ট’ নামের এই অভিযান মূলত প্রতীকী অর্থ বহন করে। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত পদ-পদবি কাউকে রক্ষা করতে পারবে না। বিশেষ করে দ্বিতীয় ধাপ বা ফেজ-২ শুরু হওয়ার পর অভিযান আরও বিস্তৃত ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হওয়ায় এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত। বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা, পরিবহন এবং শ্রমিক চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশের নিয়মিত অভিযান স্থানীয় ও জাতীয় উভয় পর্যায়েই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তার শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির দেখা যাচ্ছে। এর ফলে রাজনীতিতে জবাবদিহিতার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসছে।

এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন, যেন অভিযানের নামে নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার না হন। তবে পুলিশ প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত করছে, যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আদালতে নিষ্পত্তি হবে এবং কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা হবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযান চলমান থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এর পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে। অপরাধ দমন, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। মোংলাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত