প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নারায়ণগঞ্জে বুধবার বিকেলে বিকেএমইএ’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নির্বাচনের প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং কোনো নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থী নিজস্ব ইচ্ছামতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা সরে যাওয়ার অধিকার রাখে, এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, “নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো যার যার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। এখানে নিরাপত্তা সংকটের কোনো বিষয় নেই। প্রতিটি প্রার্থী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং এটি সম্পূর্ণরূপে তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।” তিনি বলেন, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষা করতে প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে ছয়টি পুলিশ ভ্যান হস্তান্তর করেন, যা এলাকার নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে।
সেই সঙ্গে উপদেষ্টা ওসমান হাদীর সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “ওসমান হাদী বড় মাপের একজন জুলাই যোদ্ধা। দেশের প্রতি তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। তিনি যেন সুস্থ হয়ে আবার সবার মাঝে ফিরে আসতে পারেন, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। ইতিপূর্বে বাংলাদেশও ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল। তাই এটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাভাবিক ঘটনা।”
অনুষ্ঠান শেষে বিকেএমইএ’র কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় ছাত্র-জনতা, এনসিপি, ছাত্রদল, ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্রশক্তি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সাত দফা দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা স্মারকলিপি প্রদান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবিগুলো যুক্তিসঙ্গত হিসেবে স্বীকার করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, শিল্প পুলিশের প্রধান গাজী জসিম উদ্দিন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য এবং কর্মসূচি প্রমাণ করে যে বর্তমান প্রশাসন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জনের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এ ঘটনায় স্পষ্ট যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বা সরে যাওয়া সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্য অনুসারে, এর সঙ্গে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট বা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার সম্পর্ক নেই। এই মনোভাব দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আশ্বাস ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা তার প্রশাসনিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।