গাইবান্ধার মাজারে খিচুড়ি বিতর্কে হোমিও চিকিৎসক পিটিয়ে নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ বার

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সখের বাজার এলাকায় একটি মাজারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সংঘর্ষে আহমাদউদ্দিন (৫৫) নামে এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনা ঘটে গতকাল, যখন মাজারে রান্না করা পোড়া খিচুড়ি বিতরণের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে খিচুড়ি বিতরণকে কেন্দ্র করে সাধারণ কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে তা তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় আহমাদউদ্দিন গুরুতরভাবে আহত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আহমাদউদ্দিন এলাকার একজন পরিচিত চিকিৎসক ছিলেন, এবং তার চিকিৎসা সেবায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে তার সুনাম ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, মাজারে চলমান অনুষ্ঠানের সময় খাবার বিতরণের ক্ষেত্রে নিয়ম ও সংহতির অভাবে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি দ্রুত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করলেও তাতে কার্যকর অবদান রাখতে পারেননি।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার ঝুঁকি কমাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত আহমাদউদ্দিনের পরিবার গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে এবং তারা দ্রুত বিচার চেয়েছেন। এছাড়া এলাকার মানুষ এ ঘটনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, মাজার বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খাদ্য বিতরণের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘর্ষ প্রতিরোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। তারা উল্লেখ করেছেন, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত