২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান, রাজধানীতে বিশাল সংবর্ধনার প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৫ বার
তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন: বিএনপি আশা করছে সুষ্ঠু পরিবেশ

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং দেশের রাজনীতিতে আগ্রহী সাধারণ মানুষদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিএনপি এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে পাঠিয়েছে। বৈঠকে বিমানবন্দরের প্রটোকল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল রোড) এলাকায় বিশাল গণসংবর্ধনা প্রদানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন।

বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ইতিমধ্যেই একধরনের উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দিয়ে গাড়ি শোভাযাত্রা করবেন। রাজধানী এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে নেতাকর্মীরা কর্মসূচিকে সফল করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, “দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক আলোচনার মাত্রা নতুনভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

তাদের অনুসারে, তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় আসবেন তার একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের জন্য গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত। কোনো কারণে এটি ব্যবহারযোগ্য না হলে, তিনি পাশের ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িতে উঠবেন, যা তার মায়ের বাসা।

দেশে ফিরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয় থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন তারেক রহমান। ৮৬ নম্বর রোডের ওই কার্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এতে দলের নেতারা আশা করছেন, আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সংগঠিত ও কার্যকর হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় শক্তিশালী করবে না, বরং জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। ১৭ বছরের নির্বাসনের পর রাজনৈতিক মাঠে ফিরলে তিনি যে ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেন, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ওপরও প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিরোধী দল এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়ার নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিএনপি নেতারা জানাচ্ছেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি দলের কৌশলগত ও সংগঠনমূলক কর্মকাণ্ডকে নতুনভাবে গতিশীল করবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলের তৃণমূল নেতা এবং সাধারণ কর্মী পর্যন্ত প্রভাবিত হবে। এতে আগামী নির্বাচনসহ রাজনৈতিক আন্দোলনে দলের প্রস্তুতি আরও দৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনা দেয়ার সময় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রাখা হবে। বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য বিমানবন্দর ও গাড়ি শোভাযাত্রার রুটে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ স্তরে নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রস্তুতি চোখে পড়ছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এলাকাভিত্তিক সমর্থকরা সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। তাছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনার ঢেউ চলছে। অনেকেই তাকে ‘রাজনৈতিক এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রতীক’ হিসেবে দেখছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকা নেতার দেশে প্রত্যাবর্তন শুধু উদ্দীপনা তৈরি করবে, কিন্তু তা সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থায়ী প্রভাব রাখতে হলে প্রয়োজন আরও সংযমী এবং কৌশলগত পদক্ষেপের। তারেক রহমানের উপস্থিতি দলকে পুনর্গঠন করতে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমকে এক ধাপ এগোতে সাহায্য করবে, তবে চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বও অনস্বীকার্য।

সবমিলিয়ে, ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় তারেক রহমানের আগমন কেবল বিএনপির জন্য নয়, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে থাকবে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া বিশাল গণসংবর্ধনা, শোভাযাত্রা এবং দলের তৃণমূলের উদ্দীপনা—সবই এই প্রত্যাবর্তনের তাৎপর্যকে আরও গভীর করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিএনপির জন্য একটি নতুন অধ্যায় এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি নেতার ফিরে আসা নয়, এটি দলের একনিষ্ঠতাকে পুনঃস্থাপন করার, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন মাত্রা দেওয়ার এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করার প্রতীক। রাজধানীসহ দেশজুড়ে তারেক রহমানকে ঘিরে যে উত্তেজনা ও মানবিক সমর্থনের ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা রাজনীতির সঙ্গে জনগণের সংযোগ ও রাজনৈতিক সচেতনতার শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত