প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আজ বিকেলে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে বিএনপি মিডিয়া সেল। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আগ্রহের মধ্যেই এই ব্রিফিংকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ আপডেট তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বিভ্রান্তি দূর করতে এবং প্রকৃত অবস্থা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই এই ব্রিফিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা দেখা দিলে বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুরুতে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হলেও পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শ্বাসপ্রশ্বাস, কিডনি ও লিভার সংক্রান্ত জটিলতা বাড়তে থাকায় ২৭ নভেম্বর তাকে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। বয়সজনিত সমস্যা ছাড়াও তার রয়েছে লিভার সিরোসিস, হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যা। এর আগেও একাধিকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, মিলাদ ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সুস্থতা কামনায় অসংখ্য মানুষ বার্তা দিচ্ছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর আগ্রহ ও সহানুভূতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগেও একাধিকবার বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তারা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চান। দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিতভাবে পরিবার, দলীয় নেতৃত্ব এবং চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। তবে গুজব ও বিভ্রান্তি এড়াতে চিকিৎসক কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে তারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা শুধু একটি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয়; এটি দেশের রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তার অসুস্থতা এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং নির্বাচনকালীন রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে তার স্বাস্থ্যের প্রতিটি আপডেট রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেগম জিয়ার চিকিৎসায় দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তারা বলছেন, এই ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বেগম জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার অগ্রগতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন। ফলে এই ব্রিফিং থেকে দেশবাসী একটি স্পষ্ট ধারণা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দলের পক্ষ থেকেও নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে আজকের এই ব্রিফিং শুধু একটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। দেশবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চিকিৎসকের বক্তব্য শোনার জন্য। তার শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক কোনো খবর এলে তা যেমন স্বস্তি বয়ে আনবে, তেমনি ভিন্ন কোনো বার্তা হলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেবে—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।