কিশোরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী পলাতক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাকিব মিয়ার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের ছয়চির গ্রামে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে সাকিব মিয়া ও ইভা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে রয়েছে মাত্র ছয় মাস বয়সী কন্যাসন্তান।

নিহত ইভা ছিলেন সুখিয়া ইউনিয়নের ছয়চির গ্রামের সৌদি প্রবাসী ইব্রাহিম মিয়ার কন্যা। স্বামী সাকিব মিয়া একই ইউনিয়নের আগরপাট্টা গ্রামের বোরহান উদ্দিনের ছেলে। বিয়ের পর ইভা মূলত বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাকিব শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিব তার স্ত্রী ইভার হাত-পা বেঁধে তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন।

পরিবারের সদস্যরা আহত ইভার দিকে দ্রুত নজর দিলে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী সাকিব মিয়া পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে হত্যাকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রতিবেশীরা জানান, পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। বিয়ের পর ইভার বসবাস শ্বশুরবাড়িতে হওয়ায় এবং দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল। পুলিশ এই দাম্পত্য কলহকে হত্যার মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা বলেন, এমন নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করা মানসিকভাবে সকলকে ব্যথিত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গ্রেফতারের অভিযান জোরদার করেছে এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহ থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন ধরনের নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা নজিরবিহীন নয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং পরিবারের মধ্যে বিবাদ উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত স্বামীকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রত্যেকটি সম্ভাব্য স্থান ও আশপাশের এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ইভার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে নারী নির্যাতন ও পারিবারিক হত্যার এই ঘটনা সামাজিকভাবে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সহিংসতা ও নারী হত্যার ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সমর্থন অপরিহার্য। পরিবার ও সমাজকে একত্রিত হয়ে এই ধরনের নৃশংসতা রোধ করতে হবে।

কিশোরগঞ্জে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তদন্ত চালিয়ে হত্যাকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর। ঘটনাটি স্থানীয় সমাজ ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করছে যে, পারিবারিক সহিংসতা কখনো সহ্য করা যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত