শিমলার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে রোগী নির্যাতন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

শিমলা, হিমাচল প্রদেশ: ভারতের হিমাচল প্রদেশের শিমলায় একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে রোগী নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা ঘটেছে শিমলার ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (আইজিএমসি)। ভিডিওতে দেখা যায়, এক চিকিৎসক শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন, আর রোগী আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

ঘটনাস্থল ও ভিডিও থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী রোগীর নাম অর্জুন পানওয়ার। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে আইজিএমসি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য যান। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় অর্জুন অন্য একটি ওয়ার্ডের বিছানায় শুয়ে পড়েন। সেখানেই একজন চিকিৎসক উস্কানি ছাড়াই রূঢ়ভাবে তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। রোগী আপত্তি জানানোর পর তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

অর্জুন পানওয়ার সাংবাদিকদের জানান, তিনি ব্রঙ্কোস্কোপি পরীক্ষা করানোর পর অক্সিজেন চেয়েছিলেন। তখন চিকিৎসক তার ভর্তি থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অর্জুন বলেন, “আমি শুধু সম্মানের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আমি যখন জিজ্ঞেস করি, তিনি কি নিজের পরিবারের সঙ্গে এভাবে কথা বলেন, তখনই তিনি আমাকে মারধর শুরু করেন।”

ভিডিও প্রকাশের পর চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসকের আচরণবিধি এবং হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

সামাজিক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু একজন রোগীর প্রতি সহিংসতার নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বিশ্বাসহ্রাসের প্রতীক। রোগীর নিরাপত্তা, সম্মান এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার পেশাগত আচরণ নিশ্চিত করা উচিত।

হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে ঘটনার ধরন এবং ভিডিওর প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হলো, চিকিৎসা পেশায় রোগীর প্রতি সম্মান এবং মানবিক আচরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র রোগ নিরাময়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রোগীর মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে সরকার, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের নজর আকর্ষণ হয়েছে। তারা মনে করছেন, এটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত আচরণবিধি কার্যকর করার একটি তাগিদ।

চিকিৎসা পেশার জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যে রোগীর প্রতি সহানুভূতি, ধৈর্য এবং সম্মান অপরিহার্য। আর এই ধরনের ঘটনাকে নতুনভাবে পর্যবেক্ষণ করা, প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি।

এই ঘটনায় ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, রোগীর প্রতি সহিংস আচরণ মানসম্মত চিকিৎসা সেবার জন্য হুমকি এবং এটি স্বাস্থ্য পেশার সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

অর্জুন পানওয়ার এই ঘটনার পর চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসাও প্রয়োজন। সমাজের কাছে এটি একটি বার্তা যে রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

এভাবে শিমলার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে রোগী নির্যাতনের ভিডিও শুধু ভারতের নয়, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি রোগীর অধিকার, চিকিৎসকের আচরণবিধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মানসম্মত নিয়ন্ত্রণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত