নতুন বছরের প্রথম দিনে ঢাকায় ১৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮১ বার
নতুন বছরের প্রথম দিনে ঢাকার তাপমাত্রা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন বছরের প্রথম সকালেই শীতের উপস্থিতি টের পাচ্ছেন রাজধানীবাসী। ২০২৬ সালের প্রথম দিনে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা, বাতাসে উচ্চমাত্রার আর্দ্রতা এবং হালকা শীতল হাওয়ার কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর পরিবেশ ছিল কনকনে ঠান্ডা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ ঢাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও শীতের অনুভূতি পুরোপুরি কাটবে না।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। এই উচ্চ আর্দ্রতার কারণেই মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নগরজুড়ে কুয়াশার ঘন চাদর দেখা গেছে। অনেক এলাকায় সকাল ৯টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাটে দৃশ্যমানতা কমে যায়, ফলে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে ভোরের দিকে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এই বাতাস দিনের বেলা তাপমাত্রা সামান্য বাড়াতে সহায়তা করলেও কুয়াশা ও আর্দ্রতার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের দিকে আবার ঠান্ডা অনুভূত হবে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, জানুয়ারির শুরুতে এই ধরনের তাপমাত্রা ঢাকার জন্য অস্বাভাবিক নয়, তবে টানা কুয়াশা ও আর্দ্রতার কারণে শীতের প্রকোপ বেশি মনে হচ্ছে।

সারা দেশের জন্য দেওয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কম থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও রাজধানীতে এখনো শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়নি, তবুও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে ঢাকাতেও শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকালে খোলা জায়গায় থাকা ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষদের দুর্ভোগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে শীতবস্ত্র জড়িয়ে মানুষকে রাত কাটাতে দেখা গেছে। অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেছেন। নতুন বছরের প্রথম দিন হলেও শীতের কারণে অনেকেই সকালে ঘর থেকে বের হতে অনীহা প্রকাশ করেন।

রিকশাচালক, দিনমজুর ও ভাসমান শ্রমিকদের জন্য এই শীত বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের জন্য ভোরে বের হলেও যাত্রী বা কাজ কম থাকায় আয় কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। এক রিকশাচালক বলেন, সকালে রাস্তায় মানুষ কম ছিল। ঠান্ডায় হাত-পা শক্ত হয়ে যায়, তবু সংসারের তাগিদে বের হতে হয়। শীত যত বাড়বে, কাজ তত কমবে—এই দুশ্চিন্তা সবার মধ্যেই।

চিকিৎসকরাও শীতজনিত রোগের বিষয়ে সতর্ক করছেন। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং বয়স্ক ও শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে বাইরে বের হলে গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকায় শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। যদিও দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে জানুয়ারির প্রথমার্ধে শীত অব্যাহত থাকবে। তারা আরও জানিয়েছেন, বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

নতুন বছরের শুরুতে এমন শীতল আবহাওয়া অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও শীত যেন সবাইকে একটু ধীর করে দিয়েছে। কুয়াশা ভেদ করে সূর্য ওঠার অপেক্ষায় রাজধানী, আর মানুষ নতুন বছরের প্রথম দিনে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম দিন ঢাকায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রাজধানীর শীতের চিত্রই স্পষ্ট করে তুলেছে। সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া কী রূপ নেয়, তা নজরে রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শীত যেন সহনীয় মাত্রায় থাকে এবং নতুন বছরের শুরুটা সবার জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত