দিনাজপুরে তাপমাত্রা ৯.৯ ডিগ্রি, শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই কনকনে শীতে কাঁপছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর। বৃহস্পতিবার সকালে জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শীতের তীব্রতা যেন হঠাৎ করেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। বছরের প্রথম সকালে এমন তাপমাত্রা নামায় দিনাজপুরের জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা, বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন বুধবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা দুই ডিগ্রির বেশি কমে যাওয়ায় শীতের প্রকোপ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ, যার ফলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পুরো জেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, জানুয়ারির শুরুতেই এমন তাপমাত্রা নেমে আসা শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত হতে পারে। তিনি বলেন, “আজ সকালে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।”

ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার সকালেও দিনাজপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় সূর্যের দেখা মিলতে দেরি হয়। অনেক জায়গায় সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশা কাটেনি। এর ফলে সড়ক যোগাযোগে সমস্যা দেখা দিয়েছে। মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে যানবাহন চলাচল করেছে ধীরগতিতে। ভোরে যাত্রা করা বাস ও ট্রাক চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও ছিল বেশি।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষ। খোলা জায়গায় কাজ করা দিনমজুর, ভ্যানচালক ও রিকশাচালকদের জন্য এই শীত যেন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালে কাজে বের হলেও অনেকেই কাজ পাচ্ছেন না, আবার কাজ পেলেও ঠান্ডার কারণে শরীর ঠিকভাবে সাড়া দিচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে শ্রমজীবী মানুষদের।

দিনাজপুর সদর উপজেলার এক দিনমজুর জানান, ভোরে কাজে বের হতে হলেও ঠান্ডার কারণে শরীর অবশ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “এত শীত যে হাত-পা নড়াতে কষ্ট হয়। কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই কষ্ট করেই বের হতে হচ্ছে।” একই কথা জানান শহরের এক রিকশাচালক। তিনি বলেন, যাত্রী কম থাকায় আয়ও কমে গেছে, অথচ শীতের কারণে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

শীতের তীব্রতার প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, গত কয়েকদিন ধরে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, “ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেশি। তাই সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহার করার পাশাপাশি ঠান্ডা থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক অভিভাবকই ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ভোরের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। যদিও এখনো স্কুল বন্ধের কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে তাপমাত্রা আরও কমলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ শীত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অনেকেই পুরোনো শীতবস্ত্র বের করে ব্যবহার করছেন, আবার যাদের সামর্থ্য আছে তারা নতুন গরম কাপড় কিনছেন। তবে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই শীত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানা গেছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা সাধারণত বেশি থাকে। দিনাজপুরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তারা আরও জানান, পশ্চিমা লঘুচাপ ও উত্তর দিকের ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে এই তাপমাত্রা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেই দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা শীতের কঠিন বাস্তবতাই তুলে ধরেছে। কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন যখন স্থবির, তখন মানুষের একটাই প্রত্যাশা—শীত যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে যায় সবার কাছে। সামনে আবহাওয়া কী রূপ নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে দিনাজপুরবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত