প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হবিগঞ্জের বাহুবলে কয়েকদিন ধরেই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা, গা ছুঁয়ে যাওয়া বাতাস এবং সীমাহীন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, শিশু ও বৃদ্ধরা। তীব্র শীতের কারণে শারীরিক কষ্ট ছাড়াও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, গৃহপালিত পশু ও কৃষিকাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা কয়েকদিন ধরে সূর্য দেখা যাচ্ছে না। ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনভর রাস্তাঘাট অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়ক ও মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এ কারণে শ্রমজীবী মানুষরা কাজে বের হতে পারছেন না, কৃষিক্ষেত্রেও হাড় কাঁপানো ঠান্ডার কারণে জমি চাষের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বোরো ধান আবাদে শীতের এই প্রভাব কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, শীতের এই চরম তীব্রতায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসনালী সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
নিম্ন আয়ের এবং ছিন্নমূল মানুষরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে তারা রাতে ঘুমাতে পারছেন না, দিনের বেলা বাইরে কাজেও বের হতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করেছে, তবে প্রাপ্ত শীতবস্ত্রের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখনও চরম দুর্ভোগে আছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, শীত ও কুয়াশার কারণে কৃষি কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। গরু-বাছুরসহ গৃহপালিত পশুরা শীতে বিপাকে পড়েছে। কোনো কোনো পরিবার ভিটে ছাড়া, অস্থায়ী বাড়িতে থাকা কারণে শীতের তীব্রতা সামলাতে পারছে না। তারা আশা করছেন, উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো দ্রুত আরও কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, শিশুদের খাবারের সঙ্গে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি গরম রাখা বিশেষভাবে জরুরি। শীতজনিত রোগের প্রভাব থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণে হিটার, কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ প্রয়োজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, যদি শীতপ্রবাহ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তবে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ শারীরিক অসুবিধায় পড়বেন।
শীতের কারণে বাহুবলের জনজীবন শুধু স্বাস্থ্য বা কৃষির ওপরই নয়, সামাজিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই অবস্থান করছে। যাত্রীদের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের জন্যও চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহুবলের মতো আঞ্চলিক জেলা শহরগুলোতে শীতপ্রবাহের প্রকোপ আরও তীব্র, কারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও বসতসংক্রান্ত অবকাঠামো শীতের প্রভাব মোকাবেলায় পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব শীতবস্ত্র, গরম খাবার ও জরুরি চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া না হলে এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সবমিলিয়ে বাহুবলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে, কৃষি কাজ বাধাগ্রস্ত এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে আছে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ছাড়া সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকবে।