প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি পতিত আওয়ামী লীগের সয়ার ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং তারাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিদ্যমান মামলার প্রেক্ষাপটে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার সয়ার কাজীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে তারাগঞ্জ থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই নেতার নাম মো. সরওয়ার্দী আলমেক। তিনি সয়ার ইউনিয়নের দীঘলটারি গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন বলে জানা গেছে।
তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মো. সরওয়ার্দী আলম এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে মামলার বিস্তারিত তথ্য তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায়ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তি গোপনে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মো. সরওয়ার্দী আলমেকের নাম সেই তালিকায় উঠে আসার পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরওয়ার্দী আলমকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাকালে তিনি দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান ও তৎপরতা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল। গ্রেপ্তারের খবরে তার অনুসারীদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের একটি অংশ মনে করছে—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার হওয়াই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই ধরনের গ্রেপ্তার শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রম রোধে প্রশাসন যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তারই একটি উদাহরণ হিসেবে এই অভিযানকে দেখা হচ্ছে। তারা মনে করেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এদিকে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট কিছু মহল বলছে, যেকোনো গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ অবশ্যই স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, মো. সরওয়ার্দী আলমেকের ক্ষেত্রেও আইনানুগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে এবং আদালতের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
তারাগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে এই গ্রেপ্তার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আবার অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে, তারা শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিদ্যমান মামলার ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করছে।
রংপুর জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবিষ্যতেও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তারাগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের কার্যক্রম ও তদন্তের অগ্রগতির দিকে। আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছে সচেতন মহল।