শনি–রোববারে শৈত্যপ্রবাহের চূড়ান্ত তীব্রতা, নামতে পারে তাপমাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
শনি–রোববারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, নামবে তাপমাত্রা

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চলমান শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই শৈত্যপ্রবাহের চূড়ান্ত প্রভাব পড়তে পারে আগামী শনি (১০ জানুয়ারি) ও রোববার (১১ জানুয়ারি)। এই দুই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জনপদগুলোতে তীব্র শীত জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে এবং আগামী শনি ও রোববারে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

মোস্তফা কামাল পলাশ তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, শনি ও রোববার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের একাধিক জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও কম অনুভূত তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে ঘন কুয়াশা ও শীতল উত্তর-পশ্চিমা বাতাসের কারণে। এই পরিস্থিতিতে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং খেটে খাওয়া মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান শৈত্যপ্রবাহের চিত্র তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ পলাশ জানান, বুধবার সকাল ৬টায় রাজশাহী জেলায় দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যশোরে ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, শীতের প্রকোপ ধীরে ধীরে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরও জানান, বুধবার সকাল ৬টার মধ্যে দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে অন্তত ৫টির ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, শীতের প্রভাব ইতোমধ্যেই দেশের বড় একটি অংশে অনুভূত হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে শৈত্যপ্রবাহ আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আগামী দিনের পূর্বাভাস তুলে ধরে মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ওই সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশা এবং শীতল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভোররাত ও সকালের দিকে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের এমন পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে শীতের তীব্রতায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শীতজনিত রোগ যেমন সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে পর্যাপ্ত গরম পোশাক ব্যবহার করা, শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং রাত ও ভোরে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি শীত মৌসুমে একাধিক দফায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের ধরন ও তীব্রতা আগের তুলনায় অনিয়মিত হয়ে উঠছে। কখনো হঠাৎ তাপমাত্রা অনেকটা নেমে যাচ্ছে, আবার কখনো স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কৃষি ও জনস্বাস্থ্য খাতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বোরো ধানের চারা, শাকসবজি ও শীতকালীন ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকলে সূর্যালোক কমে যায়, যা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

সব মিলিয়ে, আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী শনি ও রোববার দেশের জন্য হতে পারে চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে কঠিন সময়। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার আশঙ্কায় সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে এই শীতের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত