শ্রীমঙ্গলে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭° সেলসিয়াস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। জাতীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, আজ শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমেছে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতার এক নতুন রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। শীতের এমন তীব্রতায় কনকনে ঠাণ্ডা ও হাড় কাঁপানো পরিবেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, আজ বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা সকাল থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত ৭ ডিগ্রি থেকে ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। গতকাল শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সেটি ১.৬ ডিগ্রি কমে ৭ ডিগ্রিতে নেমেছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য আরও কষ্টের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আনিসুর রহমান আরও জানান, শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং পরবর্তী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে।

শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের মানুষ তীব্র শীতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। চা বাগান এলাকায় সকাল-বিকেল সবসময় কুয়াশা ও হিমবাহের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় চা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সকাল ও রাতে তাপমাত্রার উর্ধ্বনমনের চেয়ে নিম্নমুখী ওঠানামা বেশি। তাঁরা হাড় কাঁপানো শীতে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন। চা বাগানের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, শীতের প্রভাব এভাবে বেড়ে গেলে স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন সর্দি, কাশিসহ অন্যান্য শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।

শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দারা ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত উত্তাপের ব্যবস্থার ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেকেই গরম কম্বল, হিটার ও চায়ের মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষা দিচ্ছেন। এছাড়া স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য গরম পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমের এই শীত সাধারণের চেয়ে কিছুটা তীব্র। উত্তর-পূর্ব ও পাহাড়ি এলাকায় এমন তাপমাত্রার পতন স্বাভাবিক হলেও সমতলাঞ্চলেও তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় জনজীবনে অসুবিধা তৈরি হচ্ছে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, শীতের এই প্রভাব ১০-১৫ জানুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

শ্রীমঙ্গলের পর্যটক ও দর্শনার্থীরাও শীতের তীব্রতা অনুভব করছেন। চায়ের শহর হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় শীতের প্রভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল মনে হচ্ছে। তবে তীব্র শীতের কারণে বাইরের কার্যক্রমে অনেকেই সীমাবদ্ধতা বজায় রাখছেন। স্থানীয় হোটেল ও গেস্টহাউসে পর্যটকরা শীত উপভোগ করতে আসলেও সকাল-বিকেলে বাইরে বেড়ানো কমিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এছাড়া দেশের অন্যান্য জায়গাগুলোর সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রার তুলনা করলে দেখা যায়, পাহাড়ি ও উপত্যকাগুলোতে শীতের তীব্রতা বেশি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীতের এই প্রভাব দেশের সর্বত্রই কিছুটা হলেও অনুভূত হচ্ছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের তুলনায় শ্রীমঙ্গল ও পার্বত্য জেলা যেমন মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে তাপমাত্রা অনেক কমে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় এ সময়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রবণদের ক্ষেত্রে শীতের প্রভাব কমানোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন।

সর্বশেষ, শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা আজকের রেকর্ড ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়া দেশের শীতের মরসুমে নতুন একটি সংখ্যালঘু রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শীতের তীব্রতা কিছুদিন ধরে থাকবে এবং জনগণকে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত