প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ওপার বাংলার বাণিজ্যিক সিনেমায় সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়টি ছবি দর্শক-সমালোচক—দু’পক্ষের কাছেই সমানভাবে আলোচিত হয়েছে, তার মধ্যে দেব অভিনীত ‘খাদান’ অন্যতম। ২০২৪ সালের শেষদিকে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। গল্প, অ্যাকশন, আবেগ, বন্ধুত্ব ও দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে ‘খাদান’ যেন দেবের ক্যারিয়ারে নতুন এক মাত্রা যোগ করে। বিশেষ করে দেব ও যিশু সেনগুপ্তর অনবদ্য জুটি দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। তাই ‘খাদান ২’ আসছে—এমন খবরে স্বাভাবিকভাবেই উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। আর সেই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই প্রশ্ন—দ্বিতীয় কিস্তিতে কি থাকছেন যিশু সেনগুপ্ত?
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদন মহলে বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। কেউ বলছিলেন, চমক হিসেবে যিশুকে ফিরিয়ে আনা হবে। কেউ আবার যুক্তি দিচ্ছিলেন, গল্পের ধারাবাহিকতায় তা সম্ভব নয়। অবশেষে এই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন যিশু সেনগুপ্ত নিজেই। তার বক্তব্যে যেমন স্পষ্টতা আছে, তেমনই আছে পরিচিত রসবোধ ও স্বতঃস্ফূর্ততা, যা বরাবরই তাকে দর্শকদের কাছে আলাদা করে চেনায়।
যিশু এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘খাদান’-এ তার চরিত্রের পরিণতি সবারই জানা। ছবিতে তার চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হয়েছে। তাই বাস্তবিক দিক থেকে ভাবলে সেই চরিত্রের ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তিনি মজা করেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘মরে গেলে একটা মানুষ কীভাবে ফিরে আসতে পারে?’ এই কথার মধ্য দিয়েই তিনি কার্যত পরিষ্কার করে দেন যে ‘খাদান ২’-এ তার আগের চরিত্রে ফিরে আসা গল্পের কাঠামোর সঙ্গে যায় না।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি যিশু। সাক্ষাৎকারে তার কাছে যখন প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি পুনর্জন্মের মতো কোনো টুইস্ট থাকতে পারে, তখন তিনি রীতিমতো হাস্যরসের আশ্রয় নেন। মুচকি হেসে যিশু বলেন, ‘পুনঃজন্ম দেখানো হলে আমি দেবের কোলে থাকব।’ এই বক্তব্য মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, তাই তার ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই কথার মাধ্যমে তিনি মূলত দর্শকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার জায়গায় খানিকটা জল ঢেলে দেন, তবে হাসি আর হালকা মজার ভঙ্গিতে।
যিশু আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘খাদান’-এ জন ভট্টাচার্যের চরিত্রকে তার ছেলের ভূমিকায় দেখানো হয়েছিল। গল্পের প্রয়োজনে যদি সেই চরিত্রের কোনো অতীত বা উত্তরাধিকারকে সামনে আনা হয়, তাহলে হয়তো সেই সূত্র ধরেই নতুন কোনো চরিত্র আসতে পারে। তবে সেটি যে তিনি নিজে হবেন, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তার কথাবার্তা থেকে বোঝা যায়, ‘খাদান ২’-এ যদি তিনি না-ও থাকেন, তবু গল্পে তার চরিত্রের প্রভাব কোনো না কোনোভাবে থেকে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ‘খাদান’ মুক্তির পর দেব ও যিশুর রসায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ছবিতে তাদের বন্ধুত্ব যেমন আবেগী ছিল, তেমনই দ্বন্দ্বের দৃশ্যগুলো ছিল তীব্র ও শক্তিশালী। দর্শকরা দুই অভিনেতার অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি তাদের পরস্পরের সঙ্গে স্ক্রিন প্রেজেন্সকেও আলাদা করে প্রশংসা করেছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই জুটিকে আরও একাধিক ছবিতে দেখা গেলে বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
‘খাদান’ ছিল সুরিন্দর ফিল্মস ও দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চারের যৌথ প্রযোজনা। এই ছবিতে দেবকে দেখা গেছে দ্বৈত চরিত্রে, যা তার অভিনয় জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেব ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত, বরখা বিস্ত, ইধিকা পাল, অনির্বাণ চক্রবর্তী, জন ভট্টাচার্য ও স্নেহা বোস। প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে ছিলেন সাবলীল, তবে যিশু ও দেবের পারফরম্যান্স ছিল আলাদা করে চোখে পড়ার মতো।
বাংলা সিনেমায় সিক্যুয়েলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ‘খাদান’-এর সাফল্যের পর ‘খাদান ২’ নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিকভাবেই নির্মাতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। দর্শকরা চাইছেন আগের ছবির আবেগ ও উত্তেজনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, পাশাপাশি থাকুক নতুন চমক। যিশু সেনগুপ্ত থাকবেন কিনা—এই প্রশ্ন সেই প্রত্যাশারই অংশ।
যিশুর বক্তব্যের পর অনেক ভক্তই হয়তো কিছুটা হতাশ হবেন। তবে বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, একটি গল্পের স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জনপ্রিয়তার কারণে কোনো চরিত্রকে জোর করে ফিরিয়ে আনা হলে সেটি উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সে দিক থেকে যিশুর স্পষ্ট অবস্থান গল্পের প্রতি তার পেশাদার দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, ‘খাদান ২’ নিয়ে গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে যিশু সেনগুপ্ত কার্যত জানিয়ে দিলেন—অতীতের চরিত্র নিয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে গল্প কোন দিকে মোড় নেয়, নতুন কিস্তিতে কী কী চমক অপেক্ষা করছে, তা জানতে দর্শকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে। একথা নিশ্চিত, ‘খাদান ২’ মুক্তির আগেই আলোচনা ও প্রত্যাশার পারদ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী।