যুক্তরাজ্যে রেড অ্যালার্ট: ঝড়-তুষার বিপর্যয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
যুক্তরাজ্যে তীব্র ঝড়-তুষারপাতে ‘রেড অ্যালার্ট’

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর দেশজুড়ে শক্তিশালী ঝড়, ভারি বৃষ্টি ও ব্যাপক তুষারপাতের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা, বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই আবহাওয়া পরিস্থিতি জনজীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বুধবার বিকেল থেকে এই সতর্কতা কার্যকর হবে এবং দেশের বিভিন্ন অংশে মানুষের দৈনন্দিন জীবন কার্যক্রম প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়ের সময় বাতাস ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ মাইল গতিবেগে বইতে পারে। বিশেষত পাহাড়ি ও উঁচু অঞ্চলে তুষারপাত এক ফুট পর্যন্ত জমার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড, ওয়েলস, মিডল্যান্ডস এবং উত্তরাঞ্চলের কিছু অঞ্চলে ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ঘরের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙা এবং গাছ উপড়ে পড়া সহ নানা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হবে।

উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস এবং বড় ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই উপকূলীয় জনবসতিকে সতর্ক করেছে, যাতে কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের না হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হবে। ঝড়ের কারণে সড়ক, রেল ও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তুষার ও বরফের কারণে সড়কগুলো একেবারে পিচ্ছিল হয়ে পড়বে, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়বে।

প্রশাসন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনগণকে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, প্রচণ্ড বাতাস ও তুষারের কারণে ছোট ছোট দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছের উপর দিয়ে তারপথে ঝুঁকি, ভেঙে যাওয়া বিল্ডিং বা ছাদের ধ্বংস—all এর সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে, বিদ্যালয় ও অফিসসমূহে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা এবং উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু অঞ্চলে ছোটখাটো বন্যার খবর পাওয়া গেছে, এবং আরো স্থলভাগে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, জনজীবনকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে সতর্কতা পালন করা অপরিহার্য। উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষকে সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করার প্রয়োজন হতে পারে। তাছাড়া দুর্যোগকালীন চিকিৎসা সেবা, খাদ্য ও পানি সরবরাহ, এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে মানুষ উদ্বিগ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড়ের সম্ভাব্য দিক ও এলাকায় জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। নাগরিকরা নিজেদের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলছেন।

বাতাস, বৃষ্টি ও তুষারের একযোগে প্রভাবে যে ধরনের দুর্যোগ তৈরি হতে পারে, তা গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে বোঝা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা সবচেয়ে নিরাপদ।

এই ‘রেড অ্যালার্ট’ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নির্দেশনা। এটি জনসাধারণকে প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনার মাত্রা কমানোর চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঝড় এবং তুষারের প্রভাবে সড়ক, রেলপথ ও বিমান চলাচল একাধিক দিন ব্যাহত থাকতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।

যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের কাছে প্রধান পরামর্শ হলো: অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের হবেন না, বিদ্যুতের ব্যবহার ও যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি সাবধানভাবে ব্যবহার করুন, বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, এবং জরুরি সেবা ও সংবাদসংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। নিরাপদ থাকার জন্য পরিবারের সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে পরিবহন কর্তৃপক্ষও সতর্কতা জারি করেছে। রেল ও বিমানসেবা প্রভাবিত হওয়ার কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কথা ভাবতে বলা হয়েছে। বড় যানবাহন, বিশেষ করে ট্রাক ও বাস চালকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপর্যুক্ত ঝড়-তুষার সতর্কতা একদিকে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখলেও, এটি আবহাওয়ার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি হওয়া একটি জরুরি সতর্কতা। আবহাওয়ার এই চরম অবস্থায় নাগরিকদের সচেতন থাকা, সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা এবং জরুরি প্রস্তুতি রাখা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত