সরকার নির্বাচনে কোনো পক্ষের পাশে থাকবে না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনাজপুরের শহীদ ময়দানে ভোটের গাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে, যেখানে সরকারের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক দল নেই। আগের প্রতিটি নির্বাচন কোনো না কোনো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচন ভিন্ন, আমরা সবার জন্য সরকার।”

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, তার জন্য সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন।

তিনি আরও জানান, সরকারের নীতি অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাব নেওয়া হবে না। জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণকারীদের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঠিক ভূমিকা ভোটের পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ করে তুলবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নাগরিকরা সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের বিষয়টি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনের শেষে শহীদ ময়দানে এক মনোজ্ঞ দেশাত্মবোধক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থী, ভোটার এবং এলাকার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কনসার্টে জাতীয় সংগীত ও দেশপ্রেমমূলক গান পরিবেশন করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাতীয় দায়িত্ববোধ ও নির্বাচনপ্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করে।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি সব প্রচেষ্টা জনগণের ন্যায়নিষ্ঠ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে মনোনিবেশিত।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণই দেশের প্রকৃত রাজনীতিক শক্তি এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচন পূর্ণাঙ্গভাবে সফল হতে পারে না। এজন্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ করবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে ভোট দিতে পারেন।

এছাড়া তিনি ভোট প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্বেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হোক এবং তাদের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হোক। সরকারের দায়িত্ব নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করা।”

শুধু সরকারি কর্মকর্তারাই নয়, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও নাগরিকরাও এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য সরকারের প্রস্তুতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত