ট্রাম্প বললেন, পুতিনকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
ট্রাম্প বললেন, পুতিনকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই

প্রকাশ:১০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এক সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের নিরাপদ এলাকা থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে উঠেছে প্রশ্ন, একইভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও কি যুক্তরাষ্ট্র তুলে আনতে পারে। এই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি মনে করেন, পুতিনকে এমনভাবে তুলে আনার প্রয়োজন নেই।

এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ইঙ্গিত। জেলেনস্কি কয়েক দিন আগে মাদুরোর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম উল্লেখ করে বলেছেন, “যদি আপনারা স্বৈরশাসকদের সঙ্গে এমন পদক্ষেপ করতে পারেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জানে পরবর্তী ধাপে কী করতে হবে।” এই মন্তব্যের আলোকে ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুকি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, “মনে হচ্ছে, তিনি চাইছেন, আপনি গিয়ে পুতিনকে ধরুন। আপনি কি কখনো পুতিনকে ধরার জন্য কোনো অভিযান চালানোর আদেশ দেবেন?”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জবাবে বলেন, “আমি মনে করি, আমরা তাঁর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক রাখব এবং সব সময়ই রেখেছি।” ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতি স্থাপনের জন্য তাঁর প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি, যা তাকে হতাশ করেছে।

মাদুরোর যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া বিষয়টি মস্কো তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়া এটিকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া মাদুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের কার্যক্রম বিশ্বকে ‘বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতায় ভরপুর। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নীতি, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার এবং মধ্যস্থতার সীমার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা কার্যক্রম কূটনৈতিক সাহসী হলেও, এটি অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্য স্পষ্ট করে যে, তিনি পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বা হত্যার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহী নন। তার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এখনও কূটনৈতিক সমাধান ও সম্পর্কের মধ্যমার্গে স্থির। ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, কারণ এটি সুস্পষ্ট করে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে নয়, বরং মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মাদুরোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক মহল বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতারা এ ঘটনাকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দৃঢ় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। অন্যদিকে, মস্কো ও রাশিয়ার মিত্র দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুতিনকে একই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে তুলে আনা খুবই জটিল এবং বিপজ্জনক। রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি এ ধরনের কার্যক্রমকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তোলে। ট্রাম্পের মন্তব্যও এ ধারণাকে সমর্থন করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান ও সম্পর্ক রক্ষার ওপর ভিত্তি করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সংলাপ ও মধ্যস্থতার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের অবস্থান একটি সংযমী কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মতে, সরাসরি আক্রমণ বা অভিযানের বদলে, সম্পর্ক স্থাপনা, রাজনৈতিক সমাধান ও কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধান সম্ভব।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মাদুরোর যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে অনেকেই সাহসী বললেও, এটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টিকোণ থেকেও সমালোচিত হয়েছে। রাশিয়ার রুখে দাঁড়ানোর বার্তা এবং জাতিসংঘে নেবেনজিয়ার বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে বিতর্কিত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্যে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে সরাসরি অভিযানের পথে না থেকে কূটনৈতিক সংলাপ ও মধ্যস্থতার ওপর জোর দেবে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে। একই সঙ্গে, এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নীতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করছে, যেখানে শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে সংলাপ ও সমঝোতা অগ্রাধিকার পাবে।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা ঘটনা এবং ট্রাম্পের পুতিন প্রসঙ্গে মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এটি দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্বৈরশাসক নেতাদের প্রতি পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হলেও, এ ধরনের পদক্ষেপকে সবক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে এমন নয়। ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংযমী কৌশল এবং কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত