প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা নির্ধারণে মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল প্রক্রিয়ায় রোববার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল জমা দিয়েছিলেন, এবং প্রথমার্ধের শুনানিতে ৩৫টি আপিলের মধ্যে ২৭ জন প্রার্থিতা পুনরায় ফিরে পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কিছু আপিল নামঞ্জুর করেছে এবং কয়েকটির আপিল স্থগিত রাখা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় প্রথমার্ধের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে ৩৫টি আপিলের মধ্যে ২৭টি মঞ্জুর, ৫টি নামঞ্জুর এবং ৩টি স্থগিত রাখা হয়। এর ফলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর ২টায় দ্বিতীয়ার্ধের আপিল শুনানি শুরু হয়।
সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রথম ঘণ্টায় ১২ জন প্রার্থীর আপিলের শুনানি হয়। এর মধ্যে ১০ জনের আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, একজনের আপিল নামঞ্জুর এবং একজনের আপিল স্থগিত রাখা হয়েছে। মঞ্জুর হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খন্দকার রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাসানাত আল আমীন এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শহীদুল ইসলাম। এছাড়া টাঙ্গাইল-৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবু তাহের, বগুড়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম তালু, জয়পুরহাট-২ আসনে এবি পার্টির এস এ জাহিদ, রাঙামাটি-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা এবং জয়পুরহাট-১ আসনে এবি পার্টির সুলতান মো. শামছুজ্জামান অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম ঘণ্টায় কুমিল্লা-১ আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসানের আপিল স্থগিত রাখা হয়েছে, এবং ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে।
পরবর্তী ঘণ্টায়, সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ২৩ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে ১৭ জনের আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, চার জনের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং দুইজনের আপিল স্থগিত রাখা হয়েছে। মঞ্জুর হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কামরুন্নাহার সাথী, কুমিল্লা-৮ আসনে একই দলের মো. আলী আশ্রাফ এবং নেত্রকোনা-১ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. বেলাল হোসেন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া হবিগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. শাহিনুর রহমান, নড়াইল-২ আসনে গণধিকার পরিষদের মো. নূর ইসলাম, হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. ফরহাদ মিয়া আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে।
মাদারীপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম, যশোর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে জনতার দলের মো. গোলাম সারোয়ার এবং ঢাকা-১০ আসনে জনতার দলের মো. জাকির হোসেনও আপিল মঞ্জুর হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ আসনের তাসলিমা বেগম এবং রংপুর-৪ আসনের মো. জয়নুল আবেদিনের আপিল নামঞ্জুর হয়েছে। ভোলা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্যাহ খোকন এবং ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাদের মিয়ার আপিল স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের যথাযথ কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া প্রার্থীদের জন্য সংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার দিকেও গুরুত্ব দেয়। আপিলের ফলাফলের মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারছেন, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনমত ও স্বচ্ছতার আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করছে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করছে। এছাড়া, বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারছেন। এতে ভোটারদেরও সম্ভাব্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক বিকল্প সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন আপিলের সময়সীমা, প্রার্থিতা যাচাই প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে পরবর্তী ঘোষণা দেয়ার জন্য প্রস্তুত। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকার চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আপিলের সিদ্ধান্ত প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনী মাঠে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্ভরযোগ্যভাবে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও গতিশীল এবং নির্বাচনী আচরণ আরও জবাবদিহিমূলক হবে।
এই প্রক্রিয়া সমাপ্তির পরই দেশের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। আপিল প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্ষম হবেন, যা নির্বাচনের উত্তেজনা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আরও বাড়াবে।