খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজের অঙ্গীকার রাশেদ খানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
খালেদা জিয়ার স্বপ্নপূরণে কাজ

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আবেগঘন পরিবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির প্রতীক, যিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, সেই আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নই এখন বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।

রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও আপসহীনতার প্রতিচ্ছবি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে তিনি কখনো মাথানত করেননি। সেই আদর্শই বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর প্রেরণার উৎস। তার অনুপস্থিতি আমাদের জন্য গভীর শোকের, কিন্তু একই সঙ্গে এটি আমাদের ওপর একটি বড় দায়িত্বও রেখে গেছে।

রাশেদ খান তার বক্তব্যে আরও বলেন, এই জেলাতেই জুলাই আন্দোলনের শুরুতে প্রথমে তাকে আটক করা হয়েছিল। তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিদায় ঘটেছে। তিনি বলেন, সেই আন্দোলন ছিল জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে থেকে সেই আন্দোলনকে সফল করেছেন। এখন সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ব্যক্তি নয়, দলকে ভালোবাসেন। বিএনপি একটি আদর্শিক দল। দলীয় চেয়ারপারসনের আদর্শ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমান তাকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, আমরা সবাই মিলে এই আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাশেদ খান বলেন, তিনি তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে চান। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। মানুষের কাছে বিএনপির রাজনীতি ও কর্মসূচি পৌঁছে দেবেন। সবশেষে তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী বিদায় নিয়েছেন। আজকের এই দোয়া মাহফিলে আমরা সবাই মন খুলে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে পাঁচ সহস্রাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। মাঠজুড়ে ছিল শোকাবহ কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিবেশ। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর কোরআন খতম শেষে বিশেষ দোয়া পরিচালিত হয়, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তার নেতৃত্বে বিএনপি বহু সংকট মোকাবিলা করেছে। আজ তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও তার আদর্শ ও সংগ্রাম আমাদের পথ দেখাবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল আজাদ পান্নু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম রবি, বারোবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবদলের সভাপতি রওনকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৌমেনুজ্জামান সৌমেন এবং কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুর রহমান মিলন। উপস্থিত নেতারা তাদের বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়া সাধারণ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, আবার অনেকের কণ্ঠে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়। তাদের ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই তারা রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দোয়া মাহফিল ও সমাবেশ শুধু শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শক্তি প্রদর্শন ও সংগঠনকে চাঙ্গা করারও একটি উপলক্ষ। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানের বক্তব্যে সেই প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি নেত্রীর আদর্শ, তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং স্থানীয় সংগঠনের শক্তিকে একত্রিত করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার বার্তা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, কালীগঞ্জের এই দোয়া মাহফিল পরিণত হয় শোক, স্মৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের এক মিলনমেলায়। বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি তার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান শেষ হয়। নেতা-কর্মীদের কণ্ঠে একটাই কথা শোনা যায়—এই সংগ্রাম থামবে না, বরং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত