চুয়াডাঙ্গায় ৮ দিনের পর তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি ছাড়াল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার
চুয়াডাঙ্গা তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গায় ৮ দিন পর তাপমাত্রা আবারও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছেছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ। এটি শীতের এই মৌসুমে একটি উল্লেখযোগ্য উষ্ণতার বৃদ্ধি, যা গত কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার মানুষ ও কৃষকদের জন্য স্বস্তির সংবাদ বয়ে এনেছে।

পাঁচ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার তাপমাত্রার ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে থাকে। গত ৫ জানুয়ারি ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এরপর ৬ জানুয়ারি তা নেমে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ৭ জানুয়ারি ৭ ডিগ্রি, ৮ জানুয়ারি ৮ ডিগ্রি, ৯ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ১০ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি, ১১ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং ১২ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আজ ১৩ জানুয়ারি এই তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ফলে গত পাঁচ দিনে তাপমাত্রা প্রায় আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

শীতের এই প্রকোপে মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৬৪৬টি কম্বল বিতরণের কার্যক্রম চলছে। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ১৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এসেছে, যার মাধ্যমে আরও শীতবস্ত্র ক্রয় করে মানুষকে বিতরণ করা হবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় ৪০০ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি। এই সহায়তা খানা বিশেষভাবে ভিন্ন বয়সের শিশু ও বৃদ্ধদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত।

চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ শীতে কষ্টের কথা জানাচ্ছেন। তিতাস উপজেলার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ভোরে মাঠে ধানের চারা রোপণ করতে গিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। তীব্র শীতে ফসলেরও কিছু ক্ষতি হচ্ছে, এবং কুয়াশার কারণে কাজের সময় ক্ষণিক দৃষ্টিশক্তিও কমে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শীতের তীব্রতা কৃষক ও মাঠের শ্রমিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মধ্যবয়সি বাসিন্দা শারমিন নাহার জানান, ভোরের নামাজের পর বাইরে বের হলে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকে এবং ঠান্ডা অতিরিক্ত। শীতের কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও মা জনিত রোগের ক্ষেত্রে। তার মতে, ঠান্ডায় সাধারণ মানুষ বিশেষ সুরক্ষা ও সচেতনতা অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাতের তাপমাত্রা এখনও নিম্নমানের। বিশেষ করে সকালে ও রাতে ফসলি জমিতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য শীত এখনো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি ছাড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনরা শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কম্বল, লেপ, খাবার ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করে শীতার্ত মানুষদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ শীতকালে মানুষের জীবনের মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রার উষ্ণতা বাড়ার এই খবর কেবল মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে না, বরং কৃষক ও শ্রমিকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালের তাপমাত্রার ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও, এই ধরনের হঠাৎ বৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে রাতের শীত ও কুয়াশা এখনও সতর্ক থাকার প্রয়োজন মনে করাচ্ছে।

সার্বিকভাবে, চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি ছাড়ায় সাধারণ মানুষ, কৃষক ও প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তি ও আশা জাগিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিজিবির সহায়তায় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত