পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা পড়লো ৭.৫ ডিগ্রি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার
পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা পড়লো ৭.৫ ডিগ্রি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরাঞ্চলের শীতের তীব্রতা এ বছরও কমেনি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই তাপমাত্রার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শীতবস্ত্রহীনদের দুর্ভোগ তীব্র হচ্ছে।

এই বছরের শুরু থেকেই তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ১ জানুয়ারি থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও শীতের তীব্রতা এবং হিমেল বাতাস মানুষের ওপর কনকনে প্রভাব ফেলছে। সেদিন সকালে সূর্য উদয় হলেও ঘন কুয়াশার কারণে রোদ খুব কমে গেছে। ঘন কুয়াশায় মহাসড়কে সাধারণ যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীতে সর্দি-কাঁশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বয়স্করা শীতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তেঁতুলিয়া হাসপাতালে মা ও শিশু চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, শিশুরা অসুস্থ হলে পরিবারগুলোকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা, যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়।

স্থানীয় পাথরশ্রমিক আশরাফুল জানান, মহানন্দা নদীর বরফশীতল পানিতে কাজ করতে গিয়ে রাতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় না। ঠান্ডার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুব্যথা ও অন্যান্য অসুখ-বিসুখও দেখা দেয়। কিন্তু জীবিকা নির্বাহের তাগিদে পরদিন আবার কাজে যেতে হয়। স্থানীয়রা দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার মধ্যে শীতের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, তেঁতুলিয়ায় আজ সকাল ৯টায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন এই শৈত্যপ্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, উত্তরের অন্যান্য জেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।

শীতের কারণে তেঁতুলিয়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষদের জীবনযাত্রা চ্যালেঞ্জের মুখে। কৃষক, দিনমজুর ও দরিদ্র মানুষদের জন্য কনকনে শীতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে গেছে। ঘরে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় তারা শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন। স্থানীয় দোকানপাট ও বাজারে শীতবস্ত্র ও ওষুধের চাহিদা বেড়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শীতজনিত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাচল। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অনেকেই শীতজনিত অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে সর্দি-কাঁশি, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য শীতজনিত রোগের সংখ্যা বাড়বে যদি পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতা না থাকে।

শুধু মানুষের স্বাস্থ্যই নয়, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনেও শীতের প্রভাব পড়েছে। কুয়াশার কারণে সকাল-বিকাল নাগাদ মহাসড়কে যানজট এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে সরাসরি বাহিরে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।

তেঁতুলিয়া ও তার আশেপাশের অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকায়, বিশেষভাবে দরিদ্র, অসুস্থ ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সচেতন ও নিরাপদ রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসও জানিয়েছে, শীতের তীব্রতা কমতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

উত্তরের এই কনকনে শীতের প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জনজীবনের সমস্যা পর্যালোচনা করে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও সমাজের দায়িত্বশীল অংশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে শীত থেকে রক্ষা করতে তাপমাত্রা, কুয়াশা ও বাতাসের গতিবেগ অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত