বেইজিংয়ে কানাডা-চীন শীর্ষ বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
বেইজিংয়ে কানাডা-চীন শীর্ষ বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বেইজিংয়ে ইতিহাস ঘাঁটা এক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এটি গত আট বছরের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিবেচনা করছেন।

বিবিসি জানায়, ২০১৮ সালে হুয়াওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার ভ্যাংকুভার গ্রেপ্তারের ঘটনায় কানাডা-চীন সম্পর্কের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। এর প্রভাব এখনও দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক মেলামেশায় লক্ষ্য করা যায়। তবে此次 বৈঠককে দুই পক্ষই অতীতের উত্তপ্ত অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগোবার সংকল্প হিসেবে দেখছে। কারনি বৈঠকে বলেন, “একসাথে, আমরা অতীতের সম্পর্কের সেরা দিকগুলোকে ব্যবহার করে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। কৃষি, শক্তি ও অর্থনীতি—এগুলো এমন খাত যেখানে আমরা দ্রুত অগ্রগতি করতে পারি।”

বৈঠকের আগে কারনি বেইজিংয়ে গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ এসে দুই দেশের মধ্যে “নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্বের” প্রশংসা করেন। এসময় তিনি বলেন, কানাডার চীন সফর মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার নির্ভরতা কমানোও এই সফরের একটি লক্ষ্য।

এদিকে, চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, অতীতের বিতর্কিত বিষয়গুলো—যেমন হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার গ্রেপ্তার এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কানাডীয় নাগরিকদের আটক—এখন পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগোতে চায় বেইজিং। তবে সম্পর্কের পথে এখনও বহু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, সাংবাদিকদের সীমিত উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগগুলো দুই দেশের মধ্যে সতর্কতার বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের খাতগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুই দেশের নেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সফর বাণিজ্য বিরোধ মীমাংসায় এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো কীভাবে সামলানো হবে, সেটিই সম্পর্কের মূল পরীক্ষা হবে।

কারনি বৈঠকের সময় বলেন, “কৃষি, শক্তি এবং অর্থনীতি—এগুলো এমন ক্ষেত্র যেখানে আমরা দ্বিপক্ষীয়ভাবে দ্রুত অগ্রগতি করতে পারি।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাই, যা উভয় দেশের জন্য সমানভাবে লাভজনক হবে।”

বৈঠকের পরে দুই নেতা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উভয় দেশের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সংকল্প ব্যক্ত করেন। এ সময় কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, এবং জলবায়ু ও শক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী হয়েছে। চীনও কানাডার সঙ্গে কৃষি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা প্রসারিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বৈঠক কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিশেষ করে, এটি মার্কিন প্রভাবশালী কৌশল থেকে কানাডা বেইজিংয়ের দিকে মনোযোগ দেয়ার এক নতুন দিক নির্দেশ করছে। একই সঙ্গে, এই সরাসরি শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ সুগম করতে পারে।

অতীতে যে ধরনের উত্তেজনা ও সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল—যেমন কানাডীয় নাগরিকদের আটক, বাণিজ্য বিষয়ক মতবিরোধ এবং হুয়াওয়ের কর্মকর্তা গ্রেপ্তার—তার প্রভাব এখনও সাময়িকভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক পরিবেশে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে此次 বৈঠক এই সমস্ত সমস্যার সমাধান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন ধাপের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত