২০ জানুয়ারি শাবিতে শাকসু নির্বাচন, প্রস্তুতি চূড়ান্ত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৮ বার
শাকসু নির্বাচন

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘদিন পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আবারও প্রাণ ফিরছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ, আগ্রহ এবং নানা প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারটি শিক্ষা ভবনসহ মোট ছয়টি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ১৭৮টি বুথ। শাকসুর ওয়েবসাইটে ভোটকেন্দ্র ও বুথসংক্রান্ত বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন, যাতে ভোটাররা আগেই নিজেদের ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে পারেন।

শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছের সই করা তালিকা অনুযায়ী, শিক্ষা ভবন-সি, শিক্ষা ভবন-ডি এবং শিক্ষা ভবন-ই’তে একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে দুটি কেন্দ্র এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনে একটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ছয়টি কেন্দ্রে মোট ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শাকসু নির্বাচনের জন্য অন্যতম বড় পরিসরের আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোটারদের সুবিধা এবং হলভিত্তিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র বণ্টন করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ছেলেদের বিজয়-২৪ হলের ভোটাররা শিক্ষা ভবন-সি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। শাহপরাণ হলের ভোটারদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে শিক্ষা ভবন-ই কেন্দ্র। সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ভোটাররা ভোট দেবেন সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রে। অন্যদিকে, মেয়েদের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হল এবং ফাতিমা তুজ জাহরা হলের ভোটারদের জন্য নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে দুটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়েশা সিদ্দিকা হলের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন শিক্ষা ভবন-ডি কেন্দ্রে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে শাহপরাণ হলে ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ২১৬ জন, সৈয়দ মুজতবা আলী হলে ১ হাজার ৪২৫ জন, বিজয়-২৪ হলে ২ হাজার ১৭৫ জন, বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলে ১ হাজার ১৮১ জন, ফাতিমা তুজ জাহরা হলে ৬৮৭ জন এবং আয়েশা সিদ্দিকা হলে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৬ জন। ভোটারসংখ্যার এই হিসাব অনুযায়ী বুথ ও কেন্দ্র বণ্টন করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণের সময় কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়।

এ বিষয়ে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ গণমাধ্যমকে জানান, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছয়টি কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন করে কোনো কেন্দ্র বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, মেয়েদের একটি হলের ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে দুটি কেন্দ্র রাখা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হয়।

শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে ওঠার মাধ্যমে আবাসন, একাডেমিক পরিবেশ, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপিত হবে বলে তারা আশা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা থাকবেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষক মহলও এই নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের চর্চা করার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

শাকসু নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচার কার্যক্রম, নির্বাচনী ইশতেহার এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে আচরণবিধি মেনে প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শাকসু নির্বাচন শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আয়োজন নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ছাত্র রাজনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতির পর নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, আগামী ২০ জানুয়ারি শাবির ক্যাম্পাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিনের অপেক্ষা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালে পুরো ক্যাম্পাস থাকবে উৎসবমুখর অথচ শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে এবং শাকসু আবারও শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত