সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমছে, শীতের আমেজ কি ফিরছে?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমছে, শীতের আমেজ কি ফিরছে?

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা কমে আসছিল—এমন ধারণার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাপমাত্রা হ্রাসের খবর। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমেছে। রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় শীতের আমেজ আবারও টের পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আপাতত এটিকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যাবে না, যদিও সামনে শীত কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শনিবার এখানেই তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি। দেশের অন্য কোনো এলাকায় আজ ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নামেনি।

আবহাওয়া বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেখানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর ব্যাখ্যা দিয়েছে, একটি মাত্র বিচ্ছিন্ন এলাকায় এই মাত্রার তাপমাত্রা থাকলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যায় না। শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ঘোষণা দিতে হলে একটি বিস্তৃত অঞ্চলে একই ধরনের তাপমাত্রা বিরাজ করতে হয়। সে কারণে তেঁতুলিয়ায় আজ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগের দিন শুক্রবার দেশের তিনটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। তবে সেই প্রবাহ কেটে যাওয়ার পর শনিবার ও রোববার কোনো এলাকাকেই শৈত্যপ্রবাহপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবুও তাপমাত্রার এই ওঠানামা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে শীতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

রাজধানী ঢাকায়ও তাপমাত্রা কমার প্রবণতা দেখা গেছে। আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল এই তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় তাপমাত্রা কমেছে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে ও গভীর রাতে শীতের অনুভূতি বেড়েছে, বিশেষ করে খোলা জায়গায় এবং নদীর ধারে বসবাসকারীরা শীত বেশি অনুভব করছেন।

ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর অনেক এলাকায় ভোরের দিকে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। যদিও কুয়াশার ঘনত্ব আগের মতো তীব্র নয়, তবুও হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস শীতের আমেজ বাড়িয়ে তুলছে। দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম হলেও রাতের দিকে শীত অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আজও গতকালের মতো কুয়াশার দাপট অনেকটাই কম রয়েছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে ঠিকই, তবে কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দুই দিন তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরপর সপ্তাহের শেষ দিকে, বিশেষ করে আগামী শুক্রবার থেকে শীত কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় সাধারণত শীতের দ্বিতীয় দফা অনুভূত হয়। সে হিসেবে সামনের দিনগুলোতে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি বা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ছিন্নমূল ও বয়স্করা। শহরের ফুটপাতে বসবাসকারী মানুষদের জন্য রাতের ঠান্ডা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় তা এখনো অপ্রতুল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চিকিৎসকরাও শীতের এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও হৃদ্‌রোগীদের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সার্বিকভাবে দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকতে পারে এবং বৃষ্টি বা ঝড়ের সম্ভাবনা আপাতত নেই। বাতাসের গতি স্বাভাবিক থাকলেও উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে রাত ও ভোরে শীত অনুভূত হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমার এই প্রবণতা শীতের নতুন করে বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এখনই শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা নেই, তবে সামনের দিনগুলোতে শীতের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত