প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মামলা ও তদন্তে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ধানমন্ডি, কাফরুল ও সাভার থানায় দায়ের করা মামলায় শামীমা নাসরিন এবং মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ধানমন্ডি থানায় শতাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাগুলোতে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
শামীমা নাসরিন ও মোহাম্মদ রাসেল প্রথমে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। শামীমা ২০২২ সালের এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পান, এবং মোহাম্মদ রাসেল একই বছরের ডিসেম্বরে জামিনে বের হন। তবে গ্রেপ্তারের পরও তদন্তকারীরা তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইভ্যালির এই মামলার পুনরায় গ্রেপ্তার কোম্পানির ব্যর্থতা ও দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ এবং অর্থপাচারের সম্ভাব্য কেসগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধানমন্ডি এলাকায় পুলিশ হঠাৎ অভিযান চালিয়ে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে। রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা সংবাদটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ও সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তারা তাদের অর্থ ফেরত পাবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত।
আইনজীবীরা মনে করান, মামলাটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয়ভাবে নজরকাড়া একটি প্রতারণার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। মামলা প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এই পুনরায় গ্রেপ্তার কেবল আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, এবং এটি ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, শামীমা ও রাসেলকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা সম্পর্কিত সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা এবং সাধারণ মানুষ উভয়ই সরকারের আইনী কার্যক্রমে আগ্রহী। তারা আশা করছেন, দ্রুত ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যারা দায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে শুরু হবে। এই পুনরায় গ্রেপ্তারের ফলে ইভ্যালির মামলার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যা দেশের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব বহন করছে।