প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মাত্র দুই ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে ভারতের মাটিতে পা রাখলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। মঙ্গলবার ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরেই আয়োজিত রেড কার্পেট সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয় ইউএই প্রেসিডেন্টকে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে এই সংক্ষিপ্ত সফরে ভারতে এসেছেন শেখ মুহাম্মদ। যদিও সফরের সময়কাল মাত্র দুই ঘণ্টা, তা কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সফরের সময় দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। একটি গাড়িতে পাশাপাশি বসে হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ইউএই প্রেসিডেন্টের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে এক্স-এ দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়াকে ‘ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন।
উভয় পক্ষ বৈঠকে কৌশলগত সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগে সম্ভাব্য নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষত, প্রতিরক্ষা খাতে মিলিত উদ্যোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ে যৌথ পরিকল্পনার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভারত-ইউএই জোটের সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়েও আলাপ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই নেতার স্বল্পকালীন বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সংহতির জন্য নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত-ইউএই সম্পর্ক গত কয়েক বছরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদের এই সংক্ষিপ্ত সফর এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও মজবুত করবে।
সফরের শেষে শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ভারত ত্যাগ করেন, কিন্তু দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সফর ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।