গ্রিসে ভারি বৃষ্টিতে নিহত ২, জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত অঞ্চল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ বার
গ্রিস ভারি বৃষ্টি নিহত

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গ্রিসজুড়ে বুধবার তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও ভারি বর্ষণের কারণে দুজনের প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। প্রবল বাতাস ও সঙ্গী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নৌবিষয়ক মন্ত্রী ভাসিলিস কিকিলিয়াস জানিয়েছেন, পূর্ব পেলোপোনিজের উপকূলীয় শহর অ্যাস্ট্রোসে দায়িত্ব পালনের সময় এক কোস্টগার্ড সদস্য ঢেউয়ের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন। একই সঙ্গে রাজধানী অ্যাথেন্সের উপশহর গ্লিফাডায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া একটি গাড়ির ধাক্কায় একজন নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা দুইটিতেই সীমাবদ্ধ।

ঝোড়ো আবহাওয়ার ফলে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পৌঁছেছে। ফলে পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকার জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য সতর্ক করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, রাজধানীর কিছু এলাকায় একদিনে এমন বৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ।

প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এই পরিস্থিতির কারণে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার পূর্ব নির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনজীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার। তীব্র বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্রমাগত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং নদী, খাল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে সতর্কবার্তা প্রচার করছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিসে ভারি বৃষ্টির কারণে প্রাণঘাতী বন্যা ঘটার ঘটনা বেড়েছে। নগরায়নের ফলে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যাও গুরুতর আকার নিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাথেন্স শহরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অপর্যাপ্ত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এই ধরনের প্রকৃতিক বিপর্যয় আরও ভয়ঙ্কর করে তুলছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, পানির গভীরতা অনেক এলাকায় হাঁটুর চেয়েও বেশি। সড়ক, পার্কিং এলাকা ও নিকটবর্তী বাসভবনগুলো জলের তলায়। উদ্ধারকর্মীরা ট্রাক, নৌকা ও রেজকিউ যন্ত্র ব্যবহার করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করছেন। সরকারি টেলিভিশন ও সংবাদ মাধ্যম নিয়মিত আপডেট সরবরাহ করছে, যাতে জরুরি অবস্থায় মানুষ সচেতন থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের ভারি বর্ষণ গ্রিসের উপকূলীয় এবং নদীমুখী এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অতি সম্প্রতি কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় এবং পূর্বাভাসহ ঝড়ের প্রভাবের কারণে নদী ও খালগুলো পানি ধারণে অক্ষম হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও নগর অবকাঠামোর নকশা পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণহানির ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অ্যাথেন্স ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। তবে সরকারি কর্মকর্তারা মনে করাচ্ছেন, এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকা অপরিহার্য।

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শহরের রাস্তা, সেতু এবং পাবলিক পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা যান চলাচলকে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, হাসপাতাল, স্কুল ও বাজারগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও গ্রিসের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তারা জানাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন, বেড়ে যাওয়া উষ্ণতা এবং ক্রমবর্ধমান বন্যার ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া এই ধরনের বিপর্যয় ঘণ ঘন ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শহরের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে।

সংক্ষেপে, গ্রিসে বুধবারের ঝোড়ো আবহাওয়া ও ভারি বর্ষণ দুজনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। সরকারের জরুরি পদক্ষেপ, উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষকে রক্ষা করেছে, তবে এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত