আবার শৈত্যপ্রবাহ, তিন জেলায় কনকনে ঠান্ডা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
আবার শৈত্যপ্রবাহ, তিন জেলায় কনকনে ঠান্ডা

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রায় এক সপ্তাহের উষ্ণতার পর আবারও শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই আজ শুক্রবার তাপমাত্রা কমে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের তিনটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলে রাত ও ভোরের কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যদিও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামীকাল শনিবার তাপমাত্রা মোটামুটি একই রকম থাকতে পারে, তবে এরপর ধীরে ধীরে আবার তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ছিল। শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, চলতি শীত মৌসুমে হয়তো আর বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আসবে না। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করে। সেদিন দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই মাত্রার তাপমাত্রা শৈত্যপ্রবাহের সীমার মধ্যে পড়লেও, তা যদি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় ঘটে, তাহলে সাধারণত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয় না। তবে আজ শুক্রবার দেশের একাধিক জেলায় একই ধরনের নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় শৈত্যপ্রবাহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আজ দেশের তিনটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে, যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রাগুলোকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তখন সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে সেটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে দেশের যে তিনটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে, তা মৃদু পর্যায়ের হলেও শীতের অনুভূতি বেশ তীব্র।

আজ রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল এই তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে তাপমাত্রা কমেছে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। যদিও ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহের সীমায় তাপমাত্রা নামেনি, তবুও শীতের অনুভূতি আগের দিনের তুলনায় বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম আজ সকালে গণমাধ্যমকে জানান, সার্বিকভাবে আজ দেশের তাপমাত্রা কমে গেছে। তিনি বলেন, “আজ দেশের তিনটি স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে এরপর থেকে তাপমাত্রা আবার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।” তাঁর মতে, উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বায়ু প্রবাহের কারণে এই সাময়িক তাপমাত্রা হ্রাস দেখা যাচ্ছে।

চলতি মাসে আর কোনো শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারির শেষ দিকে অথবা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে পারে। তবে সে সময় শৈত্যপ্রবাহ হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়েছে। আজকের শৈত্যপ্রবাহ সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে। খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর জন্য এই ঠান্ডা বড় ধরনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভোরের দিকে কনকনে ঠান্ডায় কাজে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। গ্রামাঞ্চলে খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষজন আগুন জ্বালিয়ে বা কম্বল গায়ে দিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শহরাঞ্চলেও ভাসমান মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই সময়টি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। শীতজনিত রোগ, যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই গরম কাপড় ব্যবহার, পর্যাপ্ত উষ্ণতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া ভোর বা রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, যদিও বর্তমান শৈত্যপ্রবাহ মৃদু পর্যায়ের, তবুও এর প্রভাব সারাদেশেই অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের কয়েক দিনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে শীত মৌসুম পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নতুন করে তাপমাত্রা ওঠানামার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত