রাইফেল থাকলে জিতবে না ভারত’ লর্ডস টেস্টের আম্পায়ারিং নিয়ে অশ্বিন-কুম্বলের ক্ষোভ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠে চলছে ক্রিকেটের আরেকটি রোমাঞ্চকর লড়াই, অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির তৃতীয় টেস্ট। ম্যাচের শেষ দিন, জয়ের সমান সুযোগ দুই দলেরই—ভারতের দরকার আর মাত্র ১৩৫ রান, ইংল্যান্ডের চাই ৬ উইকেট। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আম্পায়ারিং। ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার পল রাইফেল মাঠে থাকলে ভারতের জেতা মুশকিল।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া অশ্বিন এখন নিয়মিত ক্রিকেট বিশ্লেষক। তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ চতুর্থ দিনের খেলার পরেই ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। অশ্বিন বলেন, রাইফেল পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারতীয় দল। তাঁর দাবি, রাইফেলের কারণে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের মূল ভরসা জো রুটের ইনিংস শেষ হতে পারত অনেক আগেই। মোহাম্মদ সিরাজের বলে রুটের বিপক্ষে জোরালো আবেদন হয়েছিল। রাইফেল নটআউট দেওয়ায় ডিআরএসেও আম্পায়ার্স কল বহাল থাকে। অশ্বিনের কথায়, ‘এটা কেবল ভারতের বেলায় হচ্ছে, অন্য দলের ক্ষেত্রেও হলে আইসিসিকে দেখতে হবে। যখন ভারত বোলিং করছে তখন তিনি নটআউট ভাবেন, আর ভারত ব্যাটিং করলে তিনি সহজেই আউট দেন।’

তাঁর কথার প্রমাণ হিসেবে অশ্বিন তুলে আনেন শুবমান গিলের আউটের ঘটনা। ব্রাইডন কার্সের বলে গিলকে আউট দেন রাইফেল। ডিআরএসে ধরা পড়ে, ব্যাট আর বলের মধ্যে বড় ফাঁক ছিল। ব্যঙ্গ করে অশ্বিন বলেন, ‘আমার গাড়িটা ওই ফাঁকের মধ্যে পার্ক করা যাবে।’ অশ্বিনের বাবা, যিনি মাঠে বসে খেলা দেখছিলেন, ছেলেকে সরাসরি বলেছেন—‘পল রাইফেল থাকলে ভারত জিতবে না।’

রাইফেলের আম্পায়ারিং নিয়ে অশ্বিনের মতোই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ভারতের আরেক কিংবদন্তি, সাবেক অধিনায়ক ও কোচ অনিল কুম্বলেও। ধারাভাষ্যে কুম্বলে বলেন, রাইফেলের সিদ্ধান্তের ধরন দেখে মনে হচ্ছে তিনি আগেই স্থির করে রেখেছেন ভারতের বোলিংয়ে আউট দেবেন না। কাছাকাছি কিছু হলেও সবই নটআউট।

চার দিনের খেলা শেষে রিভিউর পরিসংখ্যানও অশ্বিন ও কুম্বলের কথাকে উসকে দিয়েছে। রাইফেলের দেওয়া মোট ১১টি সিদ্ধান্ত রিভিউ হয়েছে, এর মধ্যে ভারতই নিয়েছে ৯টি রিভিউ, যার মধ্যে চারটিতে সাফল্য মিলেছে। বাকি পাঁচটির দুটি ধরা পড়েছে ‘আম্পায়ার্স কল’-এর ফাঁদে। বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ এই টেস্টে রাইফেলের সঙ্গে মাঠে আছেন, তাঁর দেওয়া দুইটি সিদ্ধান্তই রিভিউ করেছে ভারত, দুটিতেই সফলও হয়েছে তারা।

লর্ডসের এই উত্তপ্ত টেস্ট আর কত দূর গড়াবে, তার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এক প্রশ্ন—ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির ফয়সালা কি শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সে হবে, নাকি বিতর্কিত সিদ্ধান্তেই হারবে কোনো দল? ভারতীয় ক্রিকেট মহল এখনই আঙুল তুলেছে রাইফেলের দিকে, এখন দেখার বিষয় শেষ দিনে মাঠ কী বলে। ক্রিকেটের মতোই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে আম্পায়ারদের এই অদৃশ্য প্রভাব, যা হয়তো আরও নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বিশ্ব ক্রিকেটেই।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত