চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড গড়লেন নয়্যার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড গড়লেন নয়্যার

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ক্লাবটির হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ শুরুর রেকর্ড গড়ে আলোচনায় এসেছেন। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে, যিনি বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মাঠে নামার মাধ্যমে নয়্যার এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে এটি ছিল তার ১৩৭তম ম্যাচ শুরুর রেকর্ড, যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে একটি ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস, যিনি ক্লাবটির হয়ে ১৪৯টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই রেকর্ড শুধু সংখ্যার নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বায়ার্নের গোলপোস্টে ভরসার প্রতীক হয়ে থাকা নয়্যার আধুনিক গোলরক্ষক ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

তবে রেকর্ডের আনন্দের পাশাপাশি ম্যাচের শুরুটা নয়্যারের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মাথায় একটি ভুল পাসে বল হারিয়ে ফেলেন তিনি, যা কাজে লাগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ মিডফিল্ডার আরদা গুলের দূরপাল্লার শটে গোল করেন। এই গোলটি ম্যাচের গতি দ্রুত রিয়ালের দিকে নিয়ে যায়।

এরপর আরেকটি ঘটনায় চাপ আরও বাড়ে বায়ার্ন শিবিরে। গুলেরের নেওয়া একটি ফ্রি-কিক নয়্যারের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়, ফলে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় জার্মান ক্লাবটি। শুরুতেই দুই গোল হজম করায় বায়ার্নের রক্ষণভাগ ব্যাপক চাপে পড়ে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে।

ম্যাচজুড়ে রিয়াল মাদ্রিদ ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যায়, আর বায়ার্নকে রক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। বিশেষ করে মাঝমাঠে চাপ তৈরি করে রিয়াল ম্যাচের গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বায়ার্ন।

দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্নের আক্রমণভাগ আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোলের সুযোগ তৈরি করেও তারা তা কাজে লাগাতে পারেনি। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় এবং সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ম্যাচে নয়্যার ব্যক্তিগত ভুল থাকলেও তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জনকে তা ম্লান করে না। বরং চাপের মধ্যেও দলের পাশে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শেষ করা তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে।

বায়ার্ন মিউনিখের সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, একজন গোলরক্ষকের ক্যারিয়ারে এমন মুহূর্ত স্বাভাবিক, তবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাবকে যে স্থিতিশীলতা দিয়েছেন নয়্যার, তা অমূল্য।

ম্যানুয়েল নয়্যার আধুনিক ফুটবলে ‘সুইপার কিপার’ ধারণার অন্যতম রূপকার হিসেবে বিবেচিত হন। গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার তার কৌশল বিশ্বজুড়ে গোলরক্ষকদের জন্য নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। তার এই দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সই তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, বয়স বা সময় কোনো বাধা নয়, বরং ধারাবাহিকতা ও পেশাদারিত্বই একজন খেলোয়াড়কে ইতিহাসে জায়গা করে দেয়।

সব মিলিয়ে, রেকর্ড, ভুল ও জয়ের মিশেলে এই ম্যাচটি ম্যানুয়েল নয়্যারের ক্যারিয়ারে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো। বায়ার্ন মিউনিখের জন্যও এই জয় সেমিফাইনালে নতুন আশা তৈরি করেছে, যেখানে তারা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত