বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে চীনের ‘ইটস ওকে’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
‘ইটস ওকে’। মা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন,

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চীনের চলচ্চিত্র জগতে চলমান বক্স অফিস মন্দার মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে স্থানীয় সিনেমা ‘ইটস ওকে’। মা ও মেয়ের আবেগঘন সম্পর্ক, পুরোনো দ্বন্দ্ব এবং বাস্তব জীবনের জটিলতাকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচক উভয় মহলেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দ্বিতীয় সপ্তাহেই হলিউডের বড় বাজেটের সিনেমাগুলোকে পেছনে ফেলে এটি বক্স অফিসের শীর্ষে উঠে এসেছে।

চীনের বক্স অফিস বিশ্লেষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘ইটস ওকে’ আয় করেছে প্রায় ৩১ মিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মোট আয় এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ইয়াঙ লিনা। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক তরুণী, যার জীবনে হঠাৎ ফিরে আসে তার অসুস্থ মা। দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা, চিকিৎসার সংকট এবং অতীতের অপূর্ণ সম্পর্ক ধীরে ধীরে তাদের জীবনে নতুন করে আবেগ ও দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এই মা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনই সিনেমাটির মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

দর্শকদের মতে, সিনেমাটি শুধু পারিবারিক সম্পর্কের গল্প নয়, বরং আধুনিক সমাজে মানুষের মানসিক দূরত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ক্ষমার বিষয়গুলোও গভীরভাবে তুলে ধরেছে। আবেগঘন দৃশ্য এবং বাস্তবধর্মী অভিনয় সিনেমাটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

চীনের বক্স অফিসে বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হলিউডের অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’। তৃতীয় স্থানে আছে বিজ্ঞানভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত হরর থ্রিলার ‘দ্য কেইজড বাটারফ্লাই’ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে, আর রোমান্টিক ড্রামা ‘নাউ আই মিট হার’ পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

তবে সামগ্রিকভাবে চীনের চলচ্চিত্র বাজারে ধীরগতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটির মোট বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম। এই পতনকে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দর্শকদের অভ্যাস পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক কনটেন্টের প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় বড় বাজেটের সিনেমার অভাব এই মন্দার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে ‘ইটস ওকে’ এর মতো আবেগনির্ভর ও গল্পভিত্তিক সিনেমার সাফল্য প্রমাণ করছে যে দর্শক এখনও শক্তিশালী কাহিনির প্রতি আকৃষ্ট।

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধরনের সফলতা স্থানীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নতুন করে উৎসাহ দেবে। বিশেষ করে পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত গল্পগুলো ভবিষ্যতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘ইটস ওকে’ শুধু একটি সিনেমার সাফল্য নয়, বরং চীনের চলচ্চিত্র শিল্পে ধীরগতির মধ্যেও নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এই গল্প আগামী দিনে আরও বড় সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত