প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও খ্যাতনামা রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ছাত্র ও জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারকে বাধ্য হয়ে পশ্চাদপসরণ করতে হয়েছিল। সোমবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের ত্রয়োদশ দিনের সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনার শুরুতেই অধ্যাপক রীয়াজ ঐতিহাসিক জুলাই মাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ে যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সূচনা হয়েছিল, তা ১৪ জুলাইয়ে এসে এক ভিন্ন মাত্রায় রূপ নেয়। ওইদিন তৎকালীন সরকারের এক মন্ত্রীর অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে নারীরা প্রথমবারের মতো রাতের আধারে রাজপথে নেমে আসে, যা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। সেই প্রতিরোধ ফ্যাসিবাদী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয় এবং সরকারকে ধাপে ধাপে পিছু হটতে বাধ্য করে।”
তিনি জানান, এই আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ১৪ জুলাইকে ‘জুলাই নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, “নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ আন্দোলনকে শুধু গতিশীলই করেনি, এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীর ভূমিকার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। রাজনীতি, আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি কেবল একটি সমতার বিষয় নয়, এটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।”
সোমবারের সংলাপে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। আলোচনায় দেশের রাজনীতি, নারী প্রতিনিধিত্ব, সাংবিধানিক কাঠামো এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিন বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনসভা গঠনের পথ খুঁজে বের করাই ছিল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
অধ্যাপক রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “চলমান গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় এই সংলাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। জনগণের দাবিকে সম্মান জানিয়ে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নারী নেতৃত্বের প্রসারে যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে।”
সংলাপের শেষাংশে অধ্যাপক রীয়াজ স্মরণ করিয়ে দেন, “ফ্যাসিবাদের মুখে একদা বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল, তা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়। সেই চেতনা নিয়েই আমরা একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের পথ নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছি।