ঢাবিতে প্রেমঘটিত মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, তদন্তে প্রশাসন

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২২ বার
ঢাবিতে প্রেমঘটিত মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, তদন্তে প্রশাসন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সঞ্জু বড়াইক। তিনি নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং জগন্নাথ হলের আবাসিক সদস্য ছিলেন। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার এক দরিদ্র চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান সঞ্জু, আত্মহত্যার আগে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জগন্নাথ হলের দশতলা বিশিষ্ট রবীন্দ্র ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং প্রহরীরা জানিয়েছেন, ভোরে ছাদের নিচে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৪টা ১ মিনিটে সঞ্জু হলের পূর্ব গেট দিয়ে প্রবেশ করেন এবং ভবনের লিফট ব্যবহার করে ছাদে উঠে যান। ছাদে পৌঁছানোর পর তিনি কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ৫টা ৩৬ মিনিটে পশ্চিম পাশের প্রান্ত থেকে লাফ দেন।

হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল নিশ্চিত করেছেন যে, সঞ্জুর সাম্প্রতিক মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। তিনি প্রেমঘটিত কারণে চরম মানসিক চাপে ছিলেন এবং আত্মহননের আগের দুই দিন হলে অনুপস্থিত ছিলেন। সঞ্জু বকশীবাজার এলাকার একটি বাসায় তার বাল্যবন্ধু সরলের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।

প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, “সরলের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একসঙ্গে রাতে ঘুমিয়েছিলেন, কিন্তু সকালে সরল জেগে দেখেন সঞ্জু পাশে নেই। পরে আত্মহত্যার খবরে তিনিও স্তব্ধ হয়ে পড়েন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মুনসুর জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবেই দেখা হলেও, তদন্ত সাপেক্ষে সব দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলমান রয়েছে।

আত্মহত্যার আগে সঞ্জু নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক আবেগঘন পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লিখেছেন—
“আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি দিনের পর দিন কাউকে ডিস্টার্ব করে গেছি। উল্টো মানুষকে দোষারোপ করা আমার একদম ঠিক হয়নি। আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি দিনের পর দিন অন্যায় করেছি। নিজের দোষ ঢেকে অপরজনকে দোষ দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কারণে কারও কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে, সে দায় একান্তই আমার।”

এই পোস্টের পর তার আত্মহত্যা আরও বেদনাদায়ক ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। সহপাঠী, শিক্ষক ও বন্ধুরা সঞ্জুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই করুণ ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পরামর্শ কেন্দ্র এবং সহায়তা ব্যবস্থাপনায় আরও জোর দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে অবিলম্বে হেল্পলাইন চালু, কাউন্সেলিং সেবা বিস্তারের দাবি জানাচ্ছে।

সঞ্জুর অকালমৃত্যু শুধুমাত্র একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং তা দেশের শিক্ষাঙ্গনের তরুণ মেধাবীদের মানসিক সুরক্ষা ও সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোরদার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত