যেভাবে দেশ ছেড়ে গেলেন এক সময়ের অদৃশ্য ‘ডিবি সম্রাট’ হারুন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কোনো সময়েই পুলিশের শৃঙ্খলিত কাঠামো বা চেইন অব কমান্ড মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন প্রধান হারুন-অর-রশীদ নিজেই ছিলেন নিজের আইন, নিজের শাসনব্যবস্থা। ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ প্রশ্রয়ে তিনি এককথায় ‘দানব’ হয়ে উঠেছিলেন—যিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে আইনই বগলদাবা করে রেখেছিলেন।

পুলিশ সদর দফতর বা মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে তিনি যাকে ইচ্ছা ধরতেন, যাকে ইচ্ছা পেটাতেন, যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পণ্ড করতে চাইলেই সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন পেতেন। কখনো কখনো নিজেই ফোন করতেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নম্বরে। এমনকি গণভবনে ঢুকে পড়তেও তার ছিল অবারিত অনুমতি। শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথেও ছিল তার গোপন সখ্য। সেই প্রভাবেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন সরকারের ছায়াতলে অপরাজনীতির অন্যতম ভয়ংকর অস্ত্র। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় রাতারাতি গড়ে তুলেছিলেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।

কিন্তু সময়ের নিয়মে ইতিহাস বদলেছে। জুলাইয়ে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে গেলে একে একে চাপে পড়তে থাকেন তার অনুগত গোষ্ঠীও। খবরে জানা যায়, ৮ আগস্ট পর্যন্ত হারুন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তারপর এক গোপন ব্যবস্থায় ওই রাতেই সেনা হেফাজত থেকে বেরিয়ে একটি প্রাইভেট কারে চড়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা হন, সেখান থেকে সড়কপথে চলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে। সীমান্ত অতিক্রম করে পৌঁছান ভারতের ত্রিপুরায়। সেখান থেকে কলকাতা হয়ে নেপালে পাড়ি জমান ১৬ আগস্ট। এরপর সেখান থেকে সরাসরি উড়াল দেন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট লুসিয়ায়।

সেন্ট লুসিয়ায় স্বল্প সময়ের অবস্থানের পর শেষমেশ গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, যেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। পরিবারের সবাই গ্রিনকার্ডধারী হওয়ায় সেখানে গা ঢাকা দিতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি তাকে। সূত্রের দাবি, বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে হাতবদল হওয়ায় সীমান্ত পাড়ি ও ভিন্ন দেশে আশ্রয় পাওয়া সহজ হয়েছে এই সাবেক বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার জন্য।

এক সময় রাজধানীর মানুষ যাকে দেখলে ভয়ে কাঁপত, সেই হারুন এখন ফ্লোরিডার উষ্ণ রোদে দিব্যি পরিবারের সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। এদিকে দেশের মানুষ তন্ন তন্ন করে খুঁজছে, কোথায় সেই হারুন—যে এক সময় বলে বেড়াত, ‘আমিই চেইন অব কমান্ড!’

সময়ই যেন সব শক্তির শেষ কথা বলে দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই—হারুন-অর-রশীদের এই পালিয়ে যাওয়া কি শেষ পর্যন্ত দায়মুক্তি দেবে তাকে, নাকি নতুন সরকার আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহার করে ফেরাতে পারবে সাবেক ‘ডিবি সম্রাট’কে? তারই উত্তর খুঁজছে আজকের বাংলাদেশ।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত