সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে সরকারের ঋণ ও বিনিয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার
সঞ্চয়পত্রে বাড়ছে সরকারের ঋণ ও বিনিয়োগ

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ঋণ হ্রাস পাওয়ার পর এবার ঋণের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা আয় করেছে। এতে ডিসেম্বর শেষে সরকারের এ ধরনের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকায়। এদিকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশই রাখা হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। যে কারণে অতীত তিন অর্থবছর ধরে কমতে থাকা সঞ্চয়পত্রের বিক্রি হঠাৎ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ ছিল তিন লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকা। এরপর কমতে কমতে গত জুনে তা দাঁড়ায় তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ কমেছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমেছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদ ও অন্যান্য সুবিধার কারণে অতীতে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেশি হয়। ঋণ কমাতে বিভিন্ন সময়ে সুদের হার কমানো হয়, যা ট্রেজারি বিল ও বন্ডের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। এতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে আগ্রহ হারাতে থাকে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দিকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমে ১০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসায় সঞ্চয়পত্রে পুনরায় বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে।

সরকার প্রতি বছর বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকার ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার এই হিসাব অনুযায়ী ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করেছে।

দেশ থেকে অর্থ পাচারের প্রভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ দশমিক ১০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দুই যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে স্থিতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

সঞ্চয়পত্রে উৎসে করের হার নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। গত জানুয়ারিতে হঠাৎ ১০ শতাংশ উৎসে কর ধার্য করা হয়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিশ্চিত করেছে যে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকবে। কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর করের হার ৫ শতাংশে স্থিত থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়া সরকারের জন্য ঋণ সংগ্রহের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। উচ্চ সুদ হার, নিরাপদ বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক যন্ত্রের তুলনায় স্থিতিশীলতা সঞ্চয়কারীদের আকৃষ্ট করছে। এছাড়া, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার হ্রাস করায় ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা ফের সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকেছেন।

মোটের ওপর, দীর্ঘ তিন বছরের ঋণ হ্রাসের পর চলতি অর্থবছরে সরকারের ঋণ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরম্ভ হওয়ায় বাজেট পরিচালনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সুদের হার নিয়ন্ত্রণ সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত