প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ চলমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে আরও নয়জন কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে যাঁরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, তাঁদেরই অনেকে এবার এই বরখাস্তের তালিকায় পড়েছেন। এনবিআরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে জারি করা আদেশে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই নয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই তাঁদের সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এনবিআর আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে পরিচিত কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা।
সম্প্রতি আয়কর ক্যাডারের একটি বড় অংশ এনবিআরের ভেতরে গঠনতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ ছিল—চেয়ারম্যানের একক কর্তৃত্ব, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। আন্দোলনের ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে এবং এই অচলাবস্থা গভীর উদ্বেগ তৈরি করে সরকারের উচ্চ মহলে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এনবিআর প্রশাসন প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু আন্দোলনরত কর্মকর্তারা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে বরখাস্তের আশঙ্কায় একপর্যায়ে আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে শুরু করেন অনেকে। এমনকি ব্যাচ ধরে চিঠি দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন কর্মকর্তারা।
তবুও, এনবিআর চেয়্যারম্যানের দিক থেকে দৃশ্যত কঠোর বার্তা দেওয়া হয়—শৃঙ্খলাভঙ্গের দায় এড়ানো যাবে না। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে বোর্ড।
এদিকে এই সিদ্ধান্তের পর কর বিভাগের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ একে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে কর্মীদের মনোবলে আঘাত ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির কারণ বলে মনে করছেন।
জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনবিআরের ভেতরে এই ধরনের অস্থিরতা কেবল প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজস্ব নীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বা অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মধ্য দিয়ে যেতে দিলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়বে।
বর্তমানে সরকার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এনবিআরের গঠনতন্ত্র ও মানবসম্পদ কাঠামো পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আজকের বরখাস্তের ঘটনা সেই বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠনেরই সূচনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।