যমুনার সামনে সরকারি চাকরিজীবীদের ও পুলিশের সংঘর্ষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ বার
যমুনার সামনে পুলিশের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার যমুনা অভিমুখে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান নেওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পুলিশের টিয়ার গ্যাস, জলকামান এবং গ্রেনেড নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে এই সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, সকাল থেকে সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও কার্যকর করার দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে যমুনার দিকে রওনা দেন। বেলা ১১টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পার্শ্ববর্তী সড়কে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে কর্মচারীরা যমুনার অভিমুখে এগিয়ে যায়। মিছিলে তারা বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করে তাদের দাবি জানাচ্ছেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের বক্তব্য, আজকের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। যদি তা না হয়, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরবেন না। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পে কমিশনের পরও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা মনে করছেন, তাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।

পুলিশি সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তদুপরি, পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও প্রয়োজনে গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সরানোর চেষ্টা করছে। এই সংঘর্ষের কারণে যমুনা এলাকার যান চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মচারীদের মধ্যে ধৈর্য ও তীব্র আন্দোলনের মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি আশ্বাস অমীমাংসিত থাকায় আজকের দিনটি তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কর্মচারীদের সমর্থকরা আশেপাশের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সমাবেশকারীদের সঙ্গ দিতে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ শুধুমাত্র পে-স্কেলের দাবিই নয়, বরং সরকারি কর্মচারীদের অধিকার ও প্রতিষ্ঠিত আইন ও নীতির বাস্তবায়নের প্রতীক। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

সরকারি চাকরিজীবীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবে না। এই অবস্থায় প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংলাপ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যমুনা এলাকার মোতায়েন বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যাতে অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার অবস্থা থেকে মানুষকে রক্ষা করা যায়। এছাড়া পুলিশি পদক্ষেপকে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীরা আশাবাদী, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি এখন বাস্তবায়িত হলে পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। এ অবস্থায় এই সংঘর্ষ কেবল পে-স্কেলের বাস্তবায়নের দাবিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের সরকারি কর্মচারী নীতিমালা ও প্রশাসনিক সুবিচারের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত