গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি কমিটির বৈঠক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ বার
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি কমিটির বৈঠক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে গাজা ইস্যু নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এই বৈঠক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি কমিটির প্রথম বৈঠক হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈঠকের পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সময়সূচি বা কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। বৈঠকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে চারটি দেশের কূটনীতিক অংশগ্রহণ করবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের ঠিক আগের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে গাজা ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর ওয়াশিংটনের দিকে থাকবে। বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো গাজার পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা।

জানুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন এবং নিজেই এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বোর্ডের লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত সমাধানের প্রচেষ্টা উল্লেখ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো অংশ নিলেও ইউরোপ এবং পশ্চিমা কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র এখনো যুক্ত হয়নি।

গত নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর থেকে গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যার অংশ ছিল ট্রাম্পের পরিকল্পনা। গাজায় এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস দুই পক্ষই সম্মতি জানিয়েছিল।

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনায় বোর্ড অব পিসের দায়িত্ব হলো গাজার অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা তদারকি করা। পরে তিনি জানান, বোর্ডের কাজ শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিয়েও কাজ করবে। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ঔপনিবেশিক কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিশেষ করে বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রাখা হয়নি বলে সমালোচনা করা হয়েছে।

অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের ফলে অন্তত ৫৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলছে, গাজায় ইসরায়েলের অভিযান গণহত্যার শামিল। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, এটি আত্মরক্ষার অধিকারেই পরিচালিত। একই সময়ে হামাসের হামলায় ১,২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ এর বেশি মানুষ জিম্মি হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের উদ্যোগ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বোর্ডের মাধ্যমে গাজায় স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব কি না, অর্থসংগ্রহ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম কতটা সফল হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেখবে। এছাড়া এই উদ্যোগে ফিলিস্তিনি অংশগ্রহণ না থাকায় আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈধতা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

গাজা ইস্যুতে নতুন এই উদ্যোগের দিকে এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রাখছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই বৈঠক শুধু রাজনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গাজার পুনর্গঠন, অর্থায়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনও সংগ্রহ করবে। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে জাতিসংঘের ভূমিকা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং মধ‌্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়তে পারে।

গাজা অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, নির্যাতন, খাদ্য সংকট এবং পুনর্বাসনের অভাবের কারণে জনজীবন ক্রমেই বিপন্ন হচ্ছে। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে বৈঠকের ফলাফল, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর।

বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটনের দিকে, যেখানে ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখে গাজা বিষয়ক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ভূমিকা শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক সূচনা আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত