যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই দেবে জাতিসংঘের বকেয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার
যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই দেবে জাতিসংঘের বকেয়া

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া অর্থ সংক্রান্ত টানাপোড়েনের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে একটি বড় অঙ্কের প্রাথমিক কিস্তি প্রদানের পথে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জাতিসংঘের বার্ষিক চাঁদার প্রথম বড় কিস্তি প্রদান করা হবে। যদিও নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ চূড়ান্ত হয়নি, তবে ওয়াল্টজ আশা প্রকাশ করেছেন, খুব দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত বাজেট বাবদ বাকি অর্থের ৯৫ শতাংশের বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য আরও ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের জন্য ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বাকি রয়েছে। এমন অবস্থায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি এই বকেয়া অর্থ না আসে তবে সংস্থা ‘আসন্ন আর্থিক সংকটে’ পড়তে পারে। এমনকি জুলাইয়ের মধ্যেই নগদ অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৬ সালের জন্য ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদ ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে। এই বাজেট ব্যবহার করে জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে দফতর পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, বৈঠক, উন্নয়ন ও মানবাধিকার কার্যক্রম চালায়। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া জমার মূল কারণ দেশটির বহুপাক্ষিক উদ্যোগ থেকে সরে আসা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এই বকেয়া দ্রুত বেড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বাজেটে এক টাকাও প্রদান করেনি। এক বছরের জন্যই বকেয়া জমেছে প্রায় ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০২৬ সালের জন্য আরও ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার বাকি রয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প একটি ব্যয় বিল আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ওয়াল্টজ জানান, মূল লক্ষ্য হলো বকেয়া কমানো, এবং একই সঙ্গে জাতিসংঘের সংস্কারের উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া।

ওয়াল্টজ বলেন, মহাসচিব গুতেরেসের ‘ইউএন ৮০’ সংস্কার পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে, তবে এটি যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, “সংস্কার আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান কাঠামো অনেক দেশের জন্য টেকসই নয়। জাতিসংঘকে আবার মূল কাজে ফিরতে হবে- শান্তি ও নিরাপত্তায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই কাজের জন্য একাধিক সংস্থা থাকায় অকারণে ব্যয় বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে এমন সাতটি জাতিসংঘ সংস্থা রয়েছে, যা কার্যত অপ্রয়োজনীয়। ত্রাণ সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক কাজও এক জায়গায় আনার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র।

মহাসচিব গুতেরেসের ইউএন ৮০ সংস্কার পরিকল্পনার লক্ষ্য ব্যয় কমানো এবং কাজের গতি বাড়ানো। ২০২৬ সালের অনুমোদিত বাজেট যদিও প্রস্তাবিত সংস্কারের চেয়ে কিছুটা বেশি, তবু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম। এছাড়া, একটি জটিল নিয়মের কারণে প্রতি বছর জাতিসংঘকে অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হয়। ওয়াল্টজ এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়ার বিষয়ে ওয়াল্টজ জানান, জাতিসংঘের চাহিদা ও মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রদানের মধ্যে গরমিল রয়েছে। তবে আগামী বছরে এই সমস্যা সমাধানের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া পরিশোধ ও সংস্কারের এই যৌথ প্রচেষ্টা যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে জাতিসংঘের আর্থিক সংকট কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে এখনো বিষয়টি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তব প্রভাব পরিলক্ষিত হতে সময় লাগবে।

সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ এবং সংস্থার সংস্কারের চাপ একত্রে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের নানা দেশের কূটনীতিক, বিশ্লেষক ও আর্থিক বিষয়ক কর্মকর্তারা নজর রাখছেন এই প্রাথমিক কিস্তি কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত