প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন এনেছে, যখন আইকনিক পেসার ইশান মালিঙ্গা চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সময় মালিঙ্গা বাম কাঁধে আঘাত পান। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির অষ্টম ওভারের প্রথম বলের সময় মাঠে লুটিয়ে পড়ে তিনি। তার অসহায় অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাঠ থেকে নামতে হয়, এবং তৃতীয় ম্যাচেও তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড তখন আশা করেছিল, আইপিএলে চমক দেখানো এই ডানহাতি পেসার বিশ্বকাপের জন্য সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু চিকিৎসা এবং বিশ্রামের পরও মালিঙ্গা সুস্থ হতে পারছেন না। ফলে, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার স্থানের শূন্য পূরণ করতে আজ প্রমোদ মদুশানের ডাক দেওয়া হয়েছে।
মালিঙ্গা আইপিএলের গত মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ৭টি ম্যাচে অংশ নেন। এই সময় তিনি ১৮.৩ গড়ে বল করেছেন এবং ৮.৯২ ইকোনমিতে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। ৮ ম্যাচে ৯.৪১ ইকোনমিতে ৮ উইকেট নিয়েছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার অন্যতম অভিজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ পেসার হিসেবে পরিচিত, যার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।
তবে প্রমোদ মদুশানের সুযোগ পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা দল নতুন উদ্যম নিয়ে মাঠে নামবে। মদুশান জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যেই ৮টি টি-২০ খেলেছেন এবং এই সময় ১২টি উইকেট নিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ পেলেন। তার শেষ আন্তর্জাতিক টি-২০ ছিল ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এবার ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে।
শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমান। শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচ খেলবে ওমানের সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি, তারপরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ১৯ ফেব্রুয়ারি। দলীয় সমন্বয়, কৌশল এবং মাঠে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নতুন এই স্কোয়াডের প্রতিটি সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দাসুন শানাকা। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা হলেন পাথুম নিশাঙ্কা, কামিল মিশারা, কুশাল মেন্ডিস, কুশাল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, জানিথ লিয়ানাগে, পবন রত্মায়েকে, দুনিধ ভেল্লালাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহিশ থিকশানা, দুশমন্থ চামিরা, মাথিশা পাথিরানা এবং প্রমোদ মদুশান। দলীয় ভারসাম্য ও অভিজ্ঞতা বজায় রাখতে এই স্কোয়াডে পেসার, ব্যাটসম্যান ও অলরাউন্ডারদের সমন্বয় রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মালিঙ্গার অভাব দলকে আক্রমণাত্মক গতিতে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। তবে প্রমোদ মদুশানের অভিজ্ঞতা এবং দলের অন্যান্য পেসারদের সমন্বয় এই ক্ষতি কিছুটা পূরণ করতে পারে। দলের কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট নতুন স্কোয়াড নিয়ে অনুশীলন ও প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দলের সেরাটা বের করা যায়।
মালিঙ্গা বাদ পড়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সমর্থক এবং বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন হলেও দলের ভিতরে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রমোদ মদুশান যেহেতু দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন, তাই তার খেলায় নতুন উদ্যম এবং অপ্রত্যাশিত কৌশল আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।
বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য শুধুমাত্র গ্রুপ পর্যায় অতিক্রম করা নয়, বরং আগের চ্যাম্পিয়নদের মর্যাদা ধরে রাখা। দলের প্রস্তুতি, নতুন স্কোয়াড এবং মাঠে পারফরম্যান্সই শেষ ফলাফল নির্ধারণ করবে। বিশেষত প্রমোদ মদুশানের মতো অভিজ্ঞ পেসার দলের বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করবে এবং ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ কমাবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, মালিঙ্গার চোট শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও প্রমোদ মদুশানের সুযোগ এবং দলের অভিজ্ঞতা এই ক্ষতি কিছুটা পূরণ করতে পারে। আগামী ম্যাচগুলোতে দলের পারফরম্যান্স এবং নতুন স্কোয়াডের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপের ভাগ্য।