নির্বাচনের কারণে ঢাবির সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার
নির্বাচনের কারণে ঢাবির সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) পূর্বনির্ধারিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্ত্তীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটের প্রস্তাব অনুযায়ী পরবর্তীতে যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজ এবং বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাসমূহ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসভুক্ত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকেন কিন্তু ভোটার হিসেবে ঢাকার বাইরে নিবন্ধিত, তাদের জন্য ভোট দিতে যাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। পরীক্ষার তারিখ অপরিবর্তিত থাকলে অনেক শিক্ষার্থীই ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারতেন।

একজন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরীক্ষার চাপের কারণে যদি কেউ ভোট দিতে না পারেন, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলের একাংশও এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তাদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা সেই লক্ষ্য পূরণেরই একটি অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষাসূচি পুনর্বিন্যাস নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় জাতীয় নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত বা পেছানোর নজির রয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী কাজ করবে। এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের একদিকে পরীক্ষার প্রস্তুতি, অন্যদিকে ভোট দিতে যাওয়া—দুটি বিষয় একসঙ্গে সামলানো কঠিন হতে পারত। সেই বিবেচনাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার, সেমিস্টারভিত্তিক কোর্সের সময়সীমা এবং অন্যান্য পরীক্ষার তারিখ সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট বা অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হবে না—এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। যেহেতু তাদের পরীক্ষাসূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তাই ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অধিভুক্ত কলেজগুলোর পরীক্ষাসূচি জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলো পরিবর্তন করা তুলনামূলকভাবে জটিল।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষাসূচি আরও সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের নাগরিক অধিকার ও একাডেমিক কার্যক্রম—দুটোই সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সব পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে এবং পরীক্ষাগুলো এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যাতে তাদের পড়াশোনা ও মানসিক প্রস্তুতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত