তারেক রহমানকে মোদির ফোন, কী কথা হলো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মোদি নিজেই।

পোস্টে তিনি জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত। বাংলাদেশ নির্বাচনে তার দলের উল্লেখযোগ্য বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তার প্রচেষ্টার প্রতি শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানিয়েছেন।

মোদি লেখেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুইটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি দুই দেশের জনগণের শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে একই দিন সকালে এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে মোদি বিএনপির বিজয়কে জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয়লাভ করেছে বলে বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। ফল ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিনন্দনের বার্তা আসতে শুরু করে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফোনালাপটি কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়। এটি ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাণিজ্য জ্বালানি সহযোগিতা নদী ইস্যু এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ নানা বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে দিল্লির এই দ্রুত যোগাযোগ পারস্পরিক আস্থার বার্তা বহন করে।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ফোনালাপে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের কল্যাণকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যদিও বিস্তারিত কূটনৈতিক বিষয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় স্পষ্ট হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশের এমন বার্তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমন্বয়ের ভিত্তি মজবুত করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর থাকবে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ কত দ্রুত বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ নেয় তার দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত