ভুল করলে হতে পারে বিস্ফোরণ, পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৮০ বার
ভুল করলে হতে পারে বিস্ফোরণ, পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা স্মার্ট ঘড়ি ছাড়া জীবন যেন কল্পনাই করা যায় না। আর এসব ডিভাইস চার্জহীন হয়ে গেলে চলার গতি যেমন থেমে যায়, তেমনি নির্ভরতা বাড়ে একটি নির্ভরযোগ্য পাওয়ার ব্যাংকের ওপর। কিন্তু শুধু চাহিদার কথা ভেবে না বুঝে যে কোনো পাওয়ার ব্যাংক কিনে ফেললে হতে পারে বড় বিপদ। কারণ, নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি নষ্ট হওয়া, চার্জিং সংক্রান্ত গোলযোগ এবং এমনকি বিস্ফোরণ কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার ব্যাংক থাকলেও নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। সেগুলোর যেকোনো একটি উপেক্ষা করলেই ফোনের জীবন হতে পারে হুমকির মুখে।

প্রথমত, পাওয়ার ব্যাংকের আউটপুট ভোল্টেজ ফোনের চার্জিং ভোল্টেজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। বেশিরভাগ ফোন ৫ ভোল্টে চার্জ হয়, তবে উচ্চক্ষমতার কিছু ফোনে ৯ বা ১২ ভোল্টের প্রয়োজন হয়। তাই ডিভাইস অনুযায়ী পাওয়ার ব্যাংকের উপযুক্ত ভোল্টেজ যাচাই না করলে ফোনের সার্কিটে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চার্জ ধারণক্ষমতা। আপনার ফোনের ব্যাটারি যদি হয় ৪০০০ এমএএইচ, তাহলে কমপক্ষে ৮০০০ থেকে ১০০০০ এমএএইচ ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার ব্যাংক কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটি ফোনকে কমপক্ষে দুইবার পুরোপুরি চার্জ করতে পারবে, যা ভ্রমণ বা বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে অনেক কাজে দেয়।

তৃতীয়ত, নিরাপত্তার বিষয়টি এখন আর বিলাসিতা নয়— বরং প্রয়োজনীয়তা। ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংকে ওভারচার্জ থেকে রক্ষা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শর্টসার্কিট প্রতিরোধ এবং ভোল্টেজ ওঠানামার বিপরীতে স্বয়ংক্রিয় রক্ষা ব্যবস্থা থাকে। এসব বৈশিষ্ট্য না থাকলে ফোনের ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

চতুর্থ বিষয়টি হলো ব্যাটারির মান। বর্তমানে বাজারে দুটি ধরনের ব্যাটারি পাওয়া যায়— লিথিয়াম আয়ন ও লিথিয়াম পলিমার। এর মধ্যে লিথিয়াম পলিমার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী। নিম্নমানের ব্যাটারি ব্যবহারে তরল নির্গত হওয়া বা ফেটে যাওয়া, এমনকি বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে।

পঞ্চম দিকটি বেশ প্রাসঙ্গিক— পোর্টের সংখ্যা ও ধরন। একাধিক ডিভাইস একসঙ্গে চার্জ দিতে চাইলে একাধিক ইউএসবি পোর্ট থাকা প্রয়োজন। তবে সব পোর্ট সব ধরনের কেবল বা চার্জিং প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, তাই কেনার সময় এটি খেয়াল রাখা জরুরি।

সবশেষে, পাওয়ার ইন্ডিকেটর বা চার্জ নির্দেশক থাকা অত্যন্ত উপকারী। এটি ডিসপ্লে বা এলইডি লাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় কতটুকু চার্জ আছে এবং কখন চার্জ করা দরকার। এটি ব্যবহারকারীদের ওভারচার্জ থেকে ডিভাইস বাঁচাতেও সহায়তা করে।

বিশেষ সতর্কতা হিসেবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ভোল্টেজ ওঠানামার সময় স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করাও বাঞ্ছনীয়। একইসঙ্গে কমদামি বা অজানা ব্র্যান্ডের চার্জার এবং সকেট ব্যবহার না করে, নামি ব্র্যান্ড এবং ওয়ারেন্টিসম্পন্ন পাওয়ার ব্যাংক কেনাই অধিক নিরাপদ।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, পাওয়ার ব্যাংক যেন শুধুমাত্র ‘চার্জিংয়ের মাধ্যম’ না হয়ে ওঠে, বরং একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়— সেটি নিশ্চিত করাই ব্যবহারকারীর দায়িত্ব। একটু সচেতনতা অনেক বড় বিপদের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত