কক্সবাজারে চুরির পর পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ: থমকে গেছে নির্জন রাতের নিরাপত্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ২৫ বার
কক্সবাজারে চুরির পর পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ: থমকে গেছে নির্জন রাতের নিরাপত্তা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় চুরির পর এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং গোটা সমাজের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘরেই এমন অঘটন প্রমাণ করে, নিরাপত্তার যে বলয় সমাজে গড়ে তোলা হয়েছে—তা এখন মারাত্মকভাবে দুর্বল।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত এক কনস্টেবলের স্ত্রী এবং তার দুই শিশু সন্তান অবস্থান করছিলেন। রাতের ঘুমভাঙা নির্জনতায় আকস্মিকভাবে এক যুবক ধারাল দা ও টর্চলাইট হাতে রান্নাঘরের জানালা ভেঙে বাসার ভিতরে ঢুকে পড়ে।

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া মুহূর্তেই ওই যুবক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কনস্টেবলের স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা লুট করে নেয়। এরপর সে তাকে জোর করে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ভয়, আতঙ্ক ও লজ্জার ভারে জর্জরিত ওই নারী কোনমতে নিজের শিশু সন্তানদের কাছে ফিরে যান। কান্নাকাটির শব্দে পাশের ভাড়াটিয়ারা ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেন।

পরদিন সকালে ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত স্বামী কর্মস্থল থেকে ফিরে আসার পর পুরো ঘটনা জানতে পেরে স্ত্রীকে নিয়ে চকরিয়া থানায় যান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

এ ধরনের ঘটনা শুধু আইনি লঙ্ঘন নয়, এটি মানবিক ও নৈতিক সীমানাও চরমভাবে লঙ্ঘন করে। বিশেষ করে পুলিশ সদস্যের পরিবারের ওপর হামলা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই উন্মোচন করে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা যেখানে বাড়ছে, সেখানে নিরাপত্তার প্রতিটি স্তরে এখন দরকার কঠোর নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রত বিচার।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, “এখন ঘরেও কেউ নিরাপদ নয়। যেখানে এক পুলিশ সদস্যের বাসায় ঢুকে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়ার মতো পর্যটন-সমৃদ্ধ এলাকায় এমন একটি নৃশংস ঘটনা পর্যটন খাতের নিরাপত্তা প্রশ্নেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং একই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শেষে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই এখন সময়ের দাবি। এই মামলার প্রতিটি অগ্রগতি দেশের সকল নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এর বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটাই হবে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি ন্যূনতম দায়বদ্ধতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত