আইভীকে আরও এক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার
আইভীকে আরও এক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, এই মামলা সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সেলিম মন্ডল হত্যার সঙ্গে আইভীর সম্পৃক্ততার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন সেলিম মন্ডলকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে ওয়াজেদ আলী নামে এক কৃষক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্তকারী এসআই মাছুম বিল্লাহ আদালতে আবেদন করেন, আইভীর সম্পৃক্ততার সন্দেহ থাকায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হোক। আদালতের নির্দেশে আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে আইভীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা এবং সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্ট থেকে এই মামলাগুলোয় জামিন পান আইভী। কিন্তু জামিন পাওয়ার একদিনও পেরোয়নি, আরও একটি হত্যা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলো। এভাবে মোট ১১টি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলায় আসামি হয়েছেন তিনি।

আইভীকে গত বছর ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় তার বাসভবন চুনকা কুটির থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকেই তাকে নানা হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠে। স্থানীয়রা জানান, এই গ্রেফতারের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “আইভী বর্তমানে কারাগারে থাকায় আদালতের নির্দেশে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তার অবস্থা আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকবে।” তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আইভীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয়। তাঁরা সরকারের কাছে চাইছেন, আইভীর মামলাগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে যেন কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব না থাকে।

এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তায় না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে।

আইভীকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও সরগরম খবর হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে। দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও দৃষ্টি এখন নারায়ণগঞ্জে, কারণ এই ধরনের উচ্চপ্রোফাইল মামলায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় জড়িত রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমবে। আইভীর মামলা ও গ্রেফতারের খবর স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যা আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে মানুষকে লক্ষ্য রাখার কারণ হতে পারে।

আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে এখনও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি ঘটনায় আইভীর ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। আইভীর জড়িত থাকার প্রমাণ থাকলে, দেশের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা যাচাই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে থাকে এবং সকল মামলা যথাযথভাবে বিচারাধীন থাকে, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইভীর নাম যুক্ত হওয়া মামলাগুলো নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক চিত্রকে আরও জটিল করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

আইভীকে গ্রেফতার দেখানো এই মামলাটি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও বিচারিক পর্যবেক্ষকরা এই মামলার প্রতি মনোযোগী রয়েছেন। তারা মনে করছেন, আইভীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হলে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত ও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

এভাবে নারায়ণগঞ্জে আইভীকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। আগামী দিনে মামলার ফলাফল ও বিচার প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত