প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা শাখার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সফিকুল ইসলাম খান (৩৮) কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, সফিকুল ইসলাম খান বিকেল ৪টায় কারাগারে লিভার সিরোসিস ও হৃদরোগের জটিলতায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ হেফাজতে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।
কারা সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সফিকুল আত্মগোপনে ছিলেন। বিএনপির অফিসে হামলা ও ভাঙচুরসহ একাধিক মামলায় গত বছরের ১০ আগস্ট গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘ সাত মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন সফিকুল। মৃত্যুতে রাতেই পটুয়াখালী কারা কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
সফিকুল ইসলাম খানের ছোট ভাই শামীম খান জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। পরিবারের স্বজন ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানাজায় উপস্থিত থাকবেন। এই মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে গভীর শোক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সফিকুলের মৃত্যুর ঘটনা দেশে কারাবন্দি ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারে বন্দি অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন ঘটনা মানুষের মানবাধিকার রক্ষা ও কারা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সফিকুল দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ মৃত্যু ঘটায় পরিবার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা হতবাক হয়েছেন। কারাগার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মরদেহ হস্তান্তর করেছে।
সফিকুলের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি, ছাত্রসংগঠন এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি ছিল। পরিবার, বন্ধু ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার দ্রুত মুক্তি ও যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছিল।
এ ঘটনার পর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ও কারাগার সূত্রে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কারাবন্দিদের চিকিৎসা সেবায় ঘাটতি রোধে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সফিকুল ইসলাম খানের মৃত্যু একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ছাত্রসংগঠন ও স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। তার মৃত্যুতে এলাকার রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।