প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অভিজ্ঞ ও বিদগ্ধ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাংবিধানিক বয়সে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবসরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় গ্রহণ করেন এবং সেদিনই তাঁর শেষ কর্মদিবস ছিল। আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের উপস্থিতিতে, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিদায়ী অনুষ্ঠান শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদ উর রউফের বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিচারপতি আসাদুজ্জামান তাঁর বিদায়ী বক্তব্যে আইনজীবীদের সহনশীলতা ও পেশাদারিত্বের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বার ভালো হলে বেঞ্চ ভালো হবে। বেঞ্চ ভালো হলে কোর্ট ভালো হবে। অনেক সময় কোনো বিচারকের আদেশ কারও মনঃপূত নাও হতে পারে। এজন্য উচ্চ আদালত রয়েছে। কিন্তু এজন্য বিচারকের সঙ্গে কোনোভাবেই অসদাচরণ করা যাবে না।’
এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এম এ সামাদ ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর ১৯৮৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে এবং ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২ আগস্ট হাই কোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট একই বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। দীর্ঘতর আইনি ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায় এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অমুল্য অবদান রেখেছেন। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
আজকের দিনে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির মধ্যে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। তাঁরা সবাই বিচারপতি আসাদুজ্জামানের কর্মময় জীবনের অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর সততা, পেশাদারিত্ব ও ন্যায়পরায়ণতার প্রশংসা করেন।
আসাদুজ্জামানের অবসরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। তাঁর দীর্ঘকালীন আইনি সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় প্রভাবশালী ও মানবিক রায় প্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন হয়েছে। বিচারপতি হিসেবে তাঁর সময়কাল আইন ও ন্যায়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, উচ্চ আদালতের মর্যাদা রক্ষা এবং আইনজীবী ও বিচারকের মধ্যে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বিচারপতির অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং তাঁর ভবিষ্যতের জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। বিচারপতি আসাদুজ্জামান অবসরে গেলেও তাঁর আইনি দৃষ্টিভঙ্গি, ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ এবং উচ্চ আদালতের মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেশের আইনজীবী সমাজে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগের বর্তমান বিচারপতিদের ওপর দায়িত্ব বেড়ে যাচ্ছে। তাঁরা এখন বিচারব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং দেশের আইনি কাঠামোয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বিচারপতি আসাদুজ্জামানের অবদান নতুন প্রজন্মের বিচারকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।