ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস আজ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস। এই দিনে সাধারণ মানুষকে ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতন করা, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রতিটি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় এই দিবসটি, যা শুধুমাত্র রোগ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সুস্থ জীবনধারার বার্তা পৌঁছে দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। সমিতিটি ১৯৫৬ সালের আজকের দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তাই আজ সমিতির ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীও উদযাপিত হচ্ছে। ৭০ বছর ধরে সমিতি দেশের মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, প্রাথমিক সনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই সমিতির অবদান অমূল্য।

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি তার বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ও দেশের জেলা পর্যায়ের অধিভুক্ত সমিতিগুলোতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে। বিশেষ করে রাজধানীর শাহবাগে সকাল সাড়ে ৮টায় বারডেম হাসপাতালের নিচে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতন করা, প্রাথমিক সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া দিনটিকে কেন্দ্র করে বারডেম অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস রোগের প্রকৃতি, প্রাথমিক চিহ্ন, রোগ প্রতিরোধের উপায় এবং সুস্থ জীবনধারার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলছেন, ডায়াবেটিস কেবলমাত্র উচ্চ রক্তচাপ বা চিনির মাত্রা বৃদ্ধি নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি যা প্রারম্ভিকভাবে শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা অনুসরণ করলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে। অপ্রতুল জ্ঞান, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি ও তেলযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই রোগের প্রধান কারণ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, সমিতির আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচি যেমন সচেতনতামূলক বর্ণমালা, পোস্টার প্রদর্শনী ও আলোচনাসভা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক।

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে জানানো যে, প্রাথমিক সতর্কতা ও জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, সময়মতো নিয়মিত রক্তচাপ এবং রক্তের শর্করার পরীক্ষা করাও রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণের অন্যতম উপায়।

বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়ার গুরুত্বকে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক করেছে। তাই সমিতি সব বয়সী মানুষের জন্য বিশেষ প্রচারণা চালাচ্ছে, যাতে তারা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ও প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন হতে পারে।

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আশা করছেন, এই ধরনের কার্যক্রম শুধু তথ্য প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি মানুষকে সুস্থ জীবনধারার দিকে প্রেরণা যোগাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব।

বিগত বছরগুলোতে সমিতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সচেতনতামূলক ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আজকের দিবসেও জেলা পর্যায়ে অধিভুক্ত সমিতিগুলোতে দিনব্যাপী স্বাস্থ্য শিবির, মেডিকেল পরামর্শ এবং সচেতনতা মূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। জনগণ এখানে এসে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারছে। এতে করে বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের আয়োজন শুধু চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন এনজিও, সমাজকল্যাণ সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকরাও এই দিবসকে উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। তারা সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য প্রচার এবং সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

সর্বশেষে, ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের মূল বার্তা হলো, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ জীবনযাপন যে কোনো বয়সে সম্ভব। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ব্যায়ামকে জীবনধারার অংশ করা হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। দেশের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সচেতন হবে এবং নিজস্ব স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

আজকের এই দিনটি কেবলমাত্র তথ্য দেওয়ার জন্য নয়; এটি একটি মানবিক সচেতনতা অভিযান, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সুস্থ জীবনধারার দিকে পরিচালিত করবে এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত